• দেশজুড়ে
  • ঝালকাঠিতে নিখোঁজ হওয়ার ৮ ঘণ্টা পর সুগন্ধার পাড়ে মিলল বৃদ্ধার মরদেহ; স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ

ঝালকাঠিতে নিখোঁজ হওয়ার ৮ ঘণ্টা পর সুগন্ধার পাড়ে মিলল বৃদ্ধার মরদেহ; স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
ঝালকাঠিতে নিখোঁজ হওয়ার ৮ ঘণ্টা পর সুগন্ধার পাড়ে মিলল বৃদ্ধার মরদেহ; স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ

ঝালকাঠি পৌরসভার নতুন চর এলাকায় চাঞ্চল্য; মৃতদেহের নাকে জখম ও গয়না গায়েব থাকায় হত্যাকাণ্ডের সন্দেহ করছে নিহতের পরিবার।

ঝালকাঠি পৌরসভার খেয়াঘাট সংলগ্ন নতুন চর এলাকায় নিখোঁজের মাত্র ৮ ঘণ্টার মাথায় এক বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভোরে সুগন্ধা নদীর পাড়ে নিলুফা বেগম (৬২) নামের ওই নারীর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের অভিযোগ, স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

নিখোঁজ ও মরদেহ উদ্ধার

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টা নাগাদ ঝালকাঠি পৌরসভার নতুন চর এলাকা থেকে নিলুফা বেগম নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘ সময় সম্ভাব্য সব স্থানে সন্ধান চালালেও তার কোনো হদিস পাননি। অবশেষে মঙ্গলবার ভোর ৬টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা সুগন্ধা নদীর পাড়ে একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি নিলুফা বেগমের বলে শনাক্ত করে।

ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ

নিহতের পরিবারের সদস্যরা এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, নিলুফা বেগমের সঙ্গে থাকা দামী স্বর্ণালংকার এবং ‘Mobile Phone’ পাওয়া যাচ্ছে না। স্বজনরা জানান, মৃতদেহের নাক রক্তাক্ত অবস্থায় ছিল, যা দেখে ধারণা করা হচ্ছে তার নাকের স্বর্ণের নাকফুলটি অত্যন্ত জোরাজুরি করে ছিঁড়ে নেওয়া হয়েছে। এই ‘Evidences’ বা আলামত থেকে পরিবারের সন্দেহ, অপরাধী চক্র স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যে তাকে নির্জন স্থানে নিয়ে শ্বাসরোধ করে বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করেছে।

পুলিশি তৎপরতা ও তদন্ত

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঝালকাঠি সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। তিনি বলেন, “মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের ‘Hospital Morgue’-এ পাঠানো হয়েছে।”

পুলিশ আরও জানিয়েছে যে, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না কিংবা এর পেছনে ছিনতাইকারী চক্রের হাত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোরদার ‘Investigation’ বা তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের ‘Autopsy Report’ হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিরাপদ জনপদে এমন রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক ধরণের নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। দ্রুত এই ঘটনার রহস্য উন্মোচন ও অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

Tags: police investigation jhalakathi news local crime autopsy report gold robbery mystery death crime scene woman body sugandha river hospital morgue