• রাজনীতি
  • ইডেন, বদরুন্নেসা ও হোম ইকোনমিকস একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করবে জামায়াত

ইডেন, বদরুন্নেসা ও হোম ইকোনমিকস একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করবে জামায়াত

ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির পাশাপাশি বেকার গ্র্যাজুয়েটদের সুদমুক্ত ঋণ, ৬৪ জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং আইসিটি খাতের উন্নয়নে 'ভিশন ২০৪০' ঘোষণা করেছে দলটি।

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
ইডেন, বদরুন্নেসা ও হোম ইকোনমিকস একীভূত করে বিশ্বের সর্ববৃহৎ নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করবে জামায়াত

ক্ষমতায় গেলে রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ এবং হোম ইকোনমিকস কলেজকে (বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ) একীভূত করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় নারী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির 'পলিসি সামিট ২০২৬'-এ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরা হয়।

শিক্ষা খাতে বড় পরিবর্তন: বিশ্বের বৃহত্তম নারী বিশ্ববিদ্যালয়

জামায়াতে ইসলামী তাদের ক্ষমতারোহণের পর শিক্ষা খাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকা শহরের তিনটি ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ ও বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজ—একীভূত করে একটি বিশাল নারী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে, যা বিশ্বের বৃহত্তম নারী বিশ্ববিদ্যালয় হবে। এছাড়াও, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা বড় কলেজগুলোকেও বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি। তাদের এই পদক্ষেপ নারী শিক্ষার প্রসার ও উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা।

তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও ঋণ সুবিধা

বেকারত্ব দূরীকরণে জামায়াত তরুণ সমাজের জন্য বেশ কিছু আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শিক্ষাজীবন শেষ করে চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত ৫ লাখ বেকার গ্র্যাজুয়েটকে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত মাসিক ১০ হাজার টাকা করে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি, মেধা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে ১ লাখ শিক্ষার্থীকে মাসিক ১০ হাজার টাকা করে সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ প্রদানেরও ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, প্রতি বছর বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার জন্য ১০০ জন মেধাবী ও গরিব শিক্ষার্থীকে সুদমুক্ত শিক্ষাঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা হার্ভার্ড, এমআইটি, অক্সফোর্ড, কেমব্রিজের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পায়। দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও চাকরির সংস্থান নিশ্চিত করার জন্য নতুন মন্ত্রণালয় সৃষ্টি এবং ৫ বছরে ১ কোটি তরুণকে বাজারভিত্তিক স্কিল প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় 'ইয়ুথ টেক ল্যাব' স্থাপন ও জেলায় 'জেলা জব ইয়ুথ ব্যাংক' গঠন করে ৫০ লাখ চাকরির সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও, নারী, তরুণ ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীকে প্রাধান্য দিয়ে ৫ লাখ উদ্যোক্তা তৈরি ও ১৫ লাখ ফ্রিল্যান্সার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অর্থনীতি ও প্রশাসনিক সংস্কার

অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামী 'জিরো টলারেন্স' নীতি ঘোষণা করেছে। ক্ষমতায় এলে তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেবে। রাজস্ব নীতিতে পরিবর্তন এনে ট্যাক্স ১৯ শতাংশে ও ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। আগামী তিন বছরে শিল্প খাতে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির চার্জ বাড়ানো হবে না বলেও জানানো হয়। বন্ধ কলকারখানাগুলো পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে (পিপিপি) চালু করে শ্রমিকদের ১০ শতাংশ মালিকানা প্রদান, ব্যবসাবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের জন্য সুদবিহীন ঋণের সুবিধা দেওয়ারও পরিকল্পনা রয়েছে। স্মার্ট সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড (এনআইডি, টিআইএন, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা এক কার্ডে) চালু করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।

স্বাস্থ্যসেবা ও আইসিটি ভিশন

স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে জামায়াত ৬০ বছরের বেশি বয়সী নাগরিক ও ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা এবং ৬৪ জেলায় ৬৪টি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, আইসিটি (তথ্যপ্রযুক্তি) খাতকে গুরুত্ব দিয়ে তারা 'ভিশন ২০৪০' ঘোষণা করেছে, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ লাখ আইসিটি-সম্পর্কিত চাকরির সংস্থান, ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল রপ্তানির জন্য ন্যাশনাল পেমেন্ট গেটওয়ে স্থাপন, আইসিটি খাত থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় নিশ্চিত করা এবং ১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সরকারি ব্যয় সাশ্রয় করে শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতিতে উত্তরণ।

রেমিট্যান্স ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ

রেমিট্যান্স বৃদ্ধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মেধা কাজে লাগানোর উদ্যোগও নিয়েছে জামায়াত। তারা দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে রেমিট্যান্স আয় দুই থেকে তিন গুণ বাড়ানোর এবং 'ইন্টেলেকচুয়াল রেমিট্যান্স' হিসেবে প্রবাসী বাংলাদেশি প্রফেশনাল, গবেষক, ও শিক্ষকদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের বলরুমে আয়োজিত 'পলিসি সামিট ২০২৬'-এ জামায়াত আমির শফিকুর রহমান দলের এই রূপরেখা উপস্থাপন করেন। সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, রাজনৈতিক নেতা, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Tags: zero tolerance ict remittance eden college bangladesh jamaat-e-islami women university policy summit 2026 education loan