• ব্যবসায়
  • আদানির বিদ্যুৎ চুক্তি পর্যালোচনা: জাতীয় কমিটি দু’ভাগে বিভক্ত, বাতিলের পক্ষে ও নতুন দরকষাকষির সুপারিশ

আদানির বিদ্যুৎ চুক্তি পর্যালোচনা: জাতীয় কমিটি দু’ভাগে বিভক্ত, বাতিলের পক্ষে ও নতুন দরকষাকষির সুপারিশ

ব্যবসায় ১ মিনিট পড়া
আদানির বিদ্যুৎ চুক্তি পর্যালোচনা: জাতীয় কমিটি দু’ভাগে বিভক্ত, বাতিলের পক্ষে ও নতুন দরকষাকষির সুপারিশ

বিতর্কিত চুক্তিতে অনিয়ম খুঁজে পাওয়ার উল্লেখ; Capacity Charge বাবদ পিডিবি-র ১৪ হাজার কোটি টাকার লোকসান; $১৫১ মিলিয়ন জরুরি পরিশোধের অনুরোধ আদানির

আদানির চুক্তি নিয়ে পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদন জমা

ভারতের শিল্পগোষ্ঠী আদানির (Adani) সঙ্গে করা বিতর্কিত বিদ্যুৎ চুক্তি নিয়ে পর্যালোচনা কমিটি দ্বিধাবিভক্ত (Divided) সুপারিশ করেছে। কমিটির একটি অংশ এই চুক্তি বাতিলের (Cancellation) পক্ষে মত দিলেও অন্যপক্ষ নতুন করে নেগোশিয়েশনের (Negotiation) পক্ষে মতামত দিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর রেল ভবনে হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী-র নেতৃত্বাধীন জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টার কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে অনিয়ম (Irregularities) খুঁজে পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

পর্যালোচনার ফল: চুক্তি বাতিল না নতুন করে দরকষাকষি

পর্যালোচনা কমিটি ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত আদানির চুক্তিটি পরীক্ষা করে এই দুই ধরনের প্রতিবেদন তৈরি করে।

সুপারিশের ধরণ:

একটি অংশে চুক্তি বাতিল হলে কী কী প্রভাব পড়তে পারে, তার বিশ্লেষণ রয়েছে।

অন্য অংশে ফের আদানির সঙ্গে নেগোসিয়েশনের ক্ষেত্র কোনগুলো এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, তার উল্লেখ রয়েছে।

দুর্নীতির অভিযোগ: গত নভেম্বর মাসে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেছিলেন, আদানি চুক্তিসহ বেশ কিছু বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে যোগসাজশ ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আর্থিক লোকসান: Capacity Charge-এর ভয়াবহ বোঝা

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (PDB) আদানির পাওনা পরিশোধ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়ার পরও আর্থিক লোকসানের চিত্র ভয়াবহ:

মোট লোকসান: আমদানি করা বিদ্যুতের কারণে মোট লোকসান ২১ হাজার ১১৪ কোটি টাকা, যার মধ্যে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকাই আদানির কারণে।

ক্যাপাসিটি চার্জ: বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও পিডিবিকে প্রতি মাসে সাড়ে চারশ কোটি টাকার বেশি ক্যাপাসিটি চার্জ (Capacity Charge) দিতে হচ্ছে। চুক্তির মেয়াদকালে শুধু ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ৮ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে, যা পদ্মা সেতু নির্মাণ ব্যয়ের দ্বিগুণেরও বেশি।

ইউনিটপ্রতি খরচ: আদানির বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি খরচ ১৪ টাকা ৮৬ পয়সা, যা দেশের অন্যান্য বিদ্যুৎ সরবরাহকারীর তুলনায় অনেক বেশি।

আইনি জটিলতা ও আদানির পাওনা দাবি

আইনি ঝুঁকি: আইনবিদ ড. শাহদীন মালিক সতর্ক করেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে চুক্তি বাতিল করলে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে (Arbitration) বাংলাদেশ ৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানা বা দাবির মুখে পড়তে পারে।

আদানির অনুরোধ: গত ১৭ জানুয়ারি আদানির পক্ষ থেকে পিডিবিকে জরুরি ভিত্তিতে ১৫১ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের অনুরোধ করা হয়েছে। তাদের দাবি, মোট বকেয়া ৬০৯ মিলিয়ন ডলার।

সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ

বিদ্যুৎ বিভাগ এই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবে এবং সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে। তবে পিডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আইনি বিরোধ চললেও আসছে গ্রীষ্মে আদানির বিদ্যুৎ নেওয়া অব্যাহত থাকবে।

Tags: bangladesh corruption political news pdb negotiation adani power electricity deal contract review cancellation capacity charge arbitration