• আন্তর্জাতিক
  • ‘পিছনে ফেরার পথ নেই’: গ্রিনল্যান্ড দখলে অনড় ট্রাম্প, ভূ-রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ

‘পিছনে ফেরার পথ নেই’: গ্রিনল্যান্ড দখলে অনড় ট্রাম্প, ভূ-রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
‘পিছনে ফেরার পথ নেই’: গ্রিনল্যান্ড দখলে অনড় ট্রাম্প, ভূ-রাজনীতিতে তীব্র উত্তাপ

দাভোসে বিশ্ব নেতাদের সতর্কবার্তা ও ন্যাটোর প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে নতুন বিতর্ক; ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি নিয়ে ওয়াশিংটন ও ইউরোপের মধ্যে চরম কূটনৈতিক টানাপোড়েন।

দাভোস ও ওয়াশিংটন: বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে নতুন এক অস্থিরতার জন্ম দিয়ে গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণের উচ্চাকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় এক কঠোর বার্তায় তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই দ্বীপ রাষ্ট্রটি অর্জনের লক্ষ্য থেকে সরে আসার বা ‘পিছনে ফিরে যাওয়ার কোনো উপায় নেই’। ট্রাম্পের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড এখন একটি ‘অপরিহার্য’ অংশ।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (World Economic Forum) বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার প্রাক্কালে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল—গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের জন্য তিনি কতদূর যেতে প্রস্তুত? উত্তরে রহস্যময় এক ভঙ্গিতে ট্রাম্প বলেন, “আপনারা সময়মতোই তা জানতে পারবেন।”

দাভোসে বিশ্ব ব্যবস্থার ভাঙন নিয়ে উদ্বেগ

ট্রাম্প যখন গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে অনড়, তখন দাভোসের মঞ্চে বিশ্ব নেতারা এক ভিন্ন আশঙ্কার চিত্র তুলে ধরছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটকে ‘নিয়মবিহীন বিশ্বের দিকে ঝুঁকে পড়া’ (Drifting towards a lawless world) হিসেবে অভিহিত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, কানাডার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মার্ক কার্নি মন্তব্য করেছেন যে, ‘পুরাতন ব্যবস্থা আর ফিরে আসছে না’। বিশ্ব নেতাদের এই বক্তব্য মূলত ট্রাম্পের ‘America First’ নীতি এবং আন্তর্জাতিক প্রটোকলকে পাশ কাটিয়ে নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রবণতার দিকেই ইঙ্গিত করছে।

ন্যাটো এবং ‘কালেক্টিভ ডিফেন্স’ নিয়ে সংশয়

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুটি এখন আর কেবল ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক বিষয় নয়, এটি উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোর (NATO) অস্তিত্বের ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। বিবিসির এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প দাবি করেন, ন্যাটোর জন্য তার চেয়ে বেশি কেউ কাজ করেনি। তবে তিনি একইসঙ্গে জোটের ‘Article 5’ বা সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

ট্রাম্প বলেন, “বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য আমাদের গ্রিনল্যান্ড প্রয়োজন। ন্যাটোর প্রয়োজনে আমরা এগিয়ে আসব, কিন্তু আমাদের প্রয়োজনে ন্যাটো পাশে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।” উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ন্যাটোর ৩২টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক উভয়ই অন্তর্ভুক্ত। জোটের মূল ভিত্তি হলো—এক সদস্যের ওপর আক্রমণ মানে সবার ওপর আক্রমণ। ট্রাম্পের এমন অবস্থান জোটের অভ্যন্তরে ‘Trust Deficit’ বা আস্থার সংকট আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

সামরিক শক্তি ও জিও-পলিটিক্যাল গুরুত্ব

গ্রিনল্যান্ড কেন ট্রাম্পের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ? বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আর্কটিক বা সুমেরু অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব রুখতে গ্রিনল্যান্ড একটি ‘Strategic Asset’ হিসেবে কাজ করবে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ট্রাম্প এই অঞ্চলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে সামরিক শক্তি বা ‘Military Force’ ব্যবহারের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি। এনবিসি নিউজের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান, যা আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা আরও উসকে দিয়েছে।

ইউরোপের অনড় অবস্থান ও বাণিজ্য যুদ্ধের হুমকি

ডেনমার্ক শুরু থেকেই তাদের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলটি বিক্রির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আসছে। ডেনিশ সরকারের সাফ কথা— ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়’। এই বিরোধের জেরে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর পুনরায় নতুন শুল্ক বা ‘Tariff’ আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প, যা একটি বড় ধরনের বাণিজ্য যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দাভোসের প্রথম দিনে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডের লেইন নাম না করে ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইউরোপ ‘সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’।

এখন দেখার বিষয়, দাভোসে নির্ধারিত বৈঠকগুলোতে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কোনো মধ্যস্থতায় আসেন নাকি বিশ্ব রাজনীতি এক নতুন ‘Cold War’ বা স্নায়ুযুদ্ধের মুখোমুখি হয়।

Tags: donald trump global security world order greenland acquisition nato alliance davos 2024 denmark conflict arctic geopolitics strategic asset military power