**** যুদ্ধবিরতির পরও ড্রোন হামলা****
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাসাকাহ প্রদেশের কামিশলি শহরে যুদ্ধবিরতি (Ceasefire) ঘোষণার পরও সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (SDF) দুটি অবস্থানে ড্রোন হামলার (Drone Attack) ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) স্থানীয় সূত্রের বরাতে শাফাক নিউজ এই তথ্য জানিয়েছে। এই হামলা সদ্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে ভঙ্গ করেছে এবং অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
হামলার বিবরণ ও লক্ষ্যবস্তু
শাফাক নিউজের প্রতিবেদক জানান, ১০ মিনিটেরও কম ব্যবধানে কামিশলি শহরে দুটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একই সময়ে শহরের আকাশে ড্রোন উড়তে দেখা গেছে।
প্রথম লক্ষ্য: প্রথম ড্রোন হামলাটি এসডিএফের 'অপারেশনস ফোর্সেস' ব্যবহৃত একটি স্থাপনায় আঘাত হানে।
দ্বিতীয় লক্ষ্য: দ্বিতীয় হামলাটি চালানো হয় আফরিন গোলচত্বরের কাছে এসডিএফ-সংশ্লিষ্ট অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী আসায়িশের (Asayish) একটি অবস্থানে।
তুরস্কের জড়িত থাকার জল্পনা ও ক্ষয়ক্ষতি
জড়িত থাকার সন্দেহ: একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, ড্রোনটি সম্ভবত তুরস্কের হতে পারে।
ক্ষয়ক্ষতি: অপারেশনস ফোর্সেসের ওই স্থাপনাটি সম্প্রতি খালি করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে শুধু অবকাঠামোগত ক্ষতির (Infrastructural Damage) তথ্য পাওয়া গেছে, হতাহতের খবর নেই।
হামলার পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পায়।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: SDF ও সিরিয়ার সামরিক সমন্বয়
এই হামলা এমন এক সময় ঘটল, যখন সবেমাত্র যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হয়েছে:
যুদ্ধবিরতি: এর আগে মঙ্গলবার সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কুর্দি নেতৃত্বাধীন এসডিএফের সঙ্গে চার দিনের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কথা জানায়। এসডিএফও এই যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি মেনে চলার অঙ্গীকার করে।
প্রশাসনিক কাঠামো: সিরিয়ার প্রেসিডেন্সি হাসাকাহ প্রদেশের জন্য একটি প্রাথমিক কাঠামো প্রকাশ করে। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, এসডিএফকে চার দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা জমা দিতে হবে। এতে হাসাকাহ ও কামিশলির কেন্দ্রীয় এলাকাগুলোতে সিরীয় সেনাবাহিনী মোতায়েন না করার এবং কুর্দি গ্রামগুলোর নিরাপত্তা স্থানীয়ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত বাহিনীর হাতে রাখার বিধান রাখা হয়েছে।
এই হামলার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হওয়ায় প্রশাসনিক ও সামরিক সমন্বয়ের রূপরেখা বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হলো।