EU-এর পূর্ণাঙ্গ মিশনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক নজর
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ইউরোপীয় সংসদ সদস্যদের (MEP - Members of the European Parliament) একটি প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসছে। এই ৭ জন সদস্য আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় পৌঁছাবেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মূল পর্যবেক্ষক মিশনের সহায়তা নিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। ২০০৮ সালের পর এটিই ইইউর প্রথম পূর্ণাঙ্গ মিশন, যা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
ইইউ মিশনের কাঠামো ও MEP-দের ভূমিকা
ইইউর মূল পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন লাতভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবস (Ivars Ijabs)।
মিশনের পরিধি: দীর্ঘমেয়াদি ৫৬ জন পর্যবেক্ষক সারা দেশের ৬৪ জেলায় মোতায়েন আছেন। নির্বাচনের ঠিক আগে মাত্র ১ সপ্তাহের জন্য ৯০ জন স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষক আসবেন।
৭ MEP-এর কাজ: এই ৭ জন MEP ভোটগ্রহণ, ভোট গণনা এবং ফলাফল সংকলন (Tabulation) প্রক্রিয়া সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন।
মতবিনিময় ও মূল্যায়ন: ঢাকায় তারা প্রধান উপদেষ্টা, নির্বাচন কমিশনার ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ কয়েকটি Stakeholder-এর সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং প্রচারণার স্বাধীনতা, ভোটার দমনের অভিযোগ, মানবাধিকার পরিস্থিতি—গভীরে গিয়ে মূল্যায়ন করবেন।
ইইউর প্রত্যাশা: জনগণের আস্থা অর্জন ও Level Playing Field
ইইউ বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনকে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য দেখতে চায়।
প্রধান চ্যালেঞ্জ: প্রধান পর্যবেক্ষক ইজাবস বলেছেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো জনগণের আস্থা অর্জন করা।
কাঙ্ক্ষিত ফল: ইইউ চায় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ইমেজ পুনরুদ্ধার হোক এবং আইনের শাসন ও মানবাধিকার শক্তিশালী করার একটি ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হোক।
সমান সুযোগ: প্রচারে সব দলের জন্য সমান সুযোগ (Level Playing Field) থাকতে হবে এবং নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হতে হবে।
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে ইইউর 'নীরব নীতি'
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দলটি এই নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না। ইইউ এই জটিল রাজনৈতিক বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে এবং 'নীরব নীতি' গ্রহণ করেছে।
ইজাবসের ব্যাখ্যা: প্রধান পর্যবেক্ষক ইজাবস এই নীরবতাকে 'জটিল রাজনৈতিক বিষয়' বলে অভিহিত করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি যদি নির্বাচনের অংশগ্রহণমূলকতা বা বিশ্বাসযোগ্যতায় প্রভাব ফেলে, তবে তা পর্যবেক্ষণ করে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে।
সরকারের বার্তা: সরকার ইইউকে জানিয়েছে, এই নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও পরবর্তী নির্বাচিত সরকার চাইলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে পারবে।