• রাজনীতি
  • জাতীয় সংসদ নির্বাচন: আজ থেকে প্রচার শুরু, জেনে নিন কে কোথায় সমাবেশ করবে

জাতীয় সংসদ নির্বাচন: আজ থেকে প্রচার শুরু, জেনে নিন কে কোথায় সমাবেশ করবে

আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী আজ তাদের প্রথম নির্বাচনী সমাবেশ করবে।

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
জাতীয় সংসদ নির্বাচন: আজ থেকে প্রচার শুরু, জেনে নিন কে কোথায় সমাবেশ করবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে গতকাল। তারই ধারাবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত প্রার্থীরা প্রচার চালাতে পারবেন। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।

আজকের নির্বাচনী কর্মসূচির চিত্র

রাজনৈতিক দলগুলো আজ থেকে তাদের নির্বাচনী প্রচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করছে। প্রধান দলগুলোর মধ্যে, বিএনপি আজ সকালে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী সমাবেশের মাধ্যমে তাদের প্রচারণা শুরু করবে। প্রথম দিনের প্রচারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেটসহ মোট সাতটি জেলায় সমাবেশে যোগ দেবেন। অন্য জেলাগুলো হলো—মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী আজ বেলা দুইটায় রাজধানীর মিরপুরের আদর্শ স্কুল মাঠে নির্বাচনী জনসভার আয়োজন করেছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানসহ ১০-দলীয় জোটের নেতারা এই জনসভায় উপস্থিত থাকবেন বলে দলটি জানিয়েছে। এই জনসভাস্থলটি শফিকুর রহমানের নির্বাচনী এলাকা (ঢাকা–১৫)-এর অন্তর্ভুক্ত।

অন্যান্য দলও তাদের কর্মসূচি শুরু করছে। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসপি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় তিন নেতার সমাধি ও শহীদ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচার শুরু করবে। জিয়ারত শেষে তাদের প্রচার কর্মসূচি জাতীয় প্রেসক্লাব পর্যন্ত যাবে। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা এই প্রচারে অংশ নেবেন। এছাড়া, আজ বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করবে সিপিবি। আর গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি সকাল ৯টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার চরলহনিয়াতে বাবার কবর জিয়ারত ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মাথাল মার্কার নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন।

প্রতীক বরাদ্দ ও প্রধান প্রার্থীদের অবস্থা

নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, গতকাল বুধবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। দলীয় প্রতীকের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও প্রতীক বরাদ্দ করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বগুড়া-৬ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা ও ঢাকা–১৭ আসনে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক মো. মনিরুল ইসলাম তারেক রহমানের পক্ষে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দের চিঠি গ্রহণ করেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান ঢাকা–১৫ আসন থেকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জামায়াতের পক্ষে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ একটি প্রতিনিধিদল রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রতীক বরাদ্দ নেন। ঢাকা–১১ আসনে এনসিপির প্রার্থী ও দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের প্রতীক শাপলা কলি।

প্রচারণার শুরুতেই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

প্রচারণার শুরুতেই বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। ঢাকা–১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন স্থানে তাঁদের দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও নাজেহাল করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার ঢাকা–১৫ আসনে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে এবং তাঁরা বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে, ঢাকা–১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেছেন, একটি বিশেষ দল নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছে। তিনি বলেন, ওই দলটি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে নারীকর্মীদের বাড়ি বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। ভিডিওতে দেখা গেছে, এসব নারীকর্মীরা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং বিকাশ নম্বর চাইছিলেন, যা ব্যক্তিগত তথ্য।

এছাড়া, ঢাকা–৮ আসনে এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেছেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান করাইল বস্তিবাসীকে ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি, নাহিদ ইসলামকে শোকজ দেওয়া হয়, কিন্তু তারেক রহমান গতকাল যখন সরাসরি এ ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেড়াচ্ছেন, তখন নির্বাচন কমিশন এখানে নিশ্চুপ থেকেছে।” প্রশাসনের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক নীতির অভিযোগ এনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “প্রশাসন একদিকে ঢলে যাচ্ছে। এখানে বৈষম্যমূলক নীতি হচ্ছে অর্থাৎ তারেক রহমানের বেলায় এক নীতি আর অন্য প্রার্থীদের বেলায় আরেক নীতি।”

এদিকে, গতকাল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের একটি প্রতিনিধিদল। বৈঠক শেষে দলের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা ইউসুফ আশরাফ সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরিতে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন এবং কিছু অভিযোগও তুলে ধরেছেন। তাঁরা আশা করেন, সব দল যেন সমান অধিকার ভোগ করতে পারে।

Tags: bnp election campaign tarek rahman bangladesh jamaat-e-islami national assembly election 2026