মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন চরমে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যেকোনো মুহূর্তে ইরানে সামরিক হামলার নির্দেশ দিতে পারেন—এমন জোরালো আশঙ্কায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) তাদের সতর্কতার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছে।
ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে নিবিড় গোয়েন্দা সমন্বয়
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যদিও হোয়াইট হাউস (White House) থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট সামরিক অভিযানের ঘোষণা আসেনি, তবুও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে কেবল জল্পনা হিসেবে দেখছে না। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সামরিক কমান্ডকে পুরোপুরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত ‘আনপ্রিডিক্টেবল’ বা অনিশ্চিত। তিনি হয়তো হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, আবার শেষ মুহূর্তে তা পরিবর্তনও করতে পারেন। এই অনিশ্চয়তার কারণেই ইসরায়েলি ইন্টেলিজেন্স (Intelligence) এবং প্রতিরক্ষা বিভাগ কোনো ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না।
তেহরানের পাল্টা আঘাতের শঙ্কা
ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মূল উদ্বেগ হলো ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে। যদি পেন্টাগন (Pentagon) ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র বা কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়, তবে তেহরান সরাসরি ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র (Missile) নিক্ষেপ করতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি এয়ার ফোর্সের (Air Force) বিশেষ উইং ইতিমধ্যে মহড়া শুরু করেছে। যদি ইরান কোনো ধরনের প্রক্সি হামলা বা সরাসরি আক্রমণ চালায়, তবে ইসরায়েলও পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের অভ্যন্তরে নির্দিষ্ট টার্গেটে আঘাত হানার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রেখেছে।
কৌশলগত সতর্কতা ও আইডিএফ-এর অবস্থান
আইডিএফ (IDF)-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অবশ্য একটি বিষয় পরিষ্কার করেছেন; ইরান হয়তো শুরুতেই ইসরায়েলকে আক্রমণ করবে না। তাদের মতে, মার্কিন হামলা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং ইরানের শাসনব্যবস্থার স্থায়িত্ব বা 'রেজিম স্ট্যাবিলিটি' হুমকির মুখে পড়ে, তবেই তারা ইসরায়েলকে এই যুদ্ধে সরাসরি টেনে আনার চেষ্টা করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রশাসনের শেষ দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় বি-৫২ বোমারু বিমানের টহল এবং পারস্য উপসাগরে রণতরীর উপস্থিতি এক ভয়াবহ যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সমরবিশারদরা। ইসরায়েল এখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী সিগন্যালের অপেক্ষায় তীক্ষ্ণ নজর রাখছে।