বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় এক ভয়াবহ নৃশংসতার ঘটনা ঘটেছে। ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার পর বাড়িতে থাকা নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার (Gold Jewelry) লুট করে নিয়ে গেছে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা। বুধবার রাতে উপজেলার বাহিরদিয়া–মানসা ইউনিয়নের মধ্যবাহিরদিয়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে।
ব্যবসায়ীর ঘরে কান্নার রোল: কী ঘটেছিল সেই রাতে?
নিহত মোমেনা বেগম (৪২) স্থানীয় ব্যবসায়ী বিল্লাল খাঁনের স্ত্রী। বিল্লাল খাঁন স্থানীয় ইউপি সদস্য খাঁন জাহিদ হাসানের আপন ভাই। প্রতিদিনের মতো বুধবার রাতেও বিল্লাল খাঁন তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘মানসা বাজারে’ ব্যস্ত ছিলেন। রাত ১০টার দিকে কাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরতেই তার পৃথিবী ওলটপালট হয়ে যায়। ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতেই তিনি দেখেন তার স্ত্রীর রক্তাক্ত মরদেহ মেঝেতে পড়ে আছে।
স্বজনরা জানান, বাড়িতে রাখা গচ্ছিত নগদ টাকা এবং বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ধর্ষ চুরির (Robbery) উদ্দেশ্যেই দুর্বৃত্তরা বাড়িতে প্রবেশ করেছিল এবং বাধা দেওয়ায় মোমেনাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
তদন্ত ও সুরতহাল রিপোর্ট: হত্যার ধরন
খবর পেয়ে ফকিরহাট মডেল থানার পুলিশ ও বাহিরদিয়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সুরতহাল (Inquest Report) প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা এসআই ওহিদুল হক জানান, মোমেনা বেগমের মুখে এবং কানের নিচে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ঘাতকরা তাকে প্রথমে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মেরে দুর্বল করে ফেলে এবং পরবর্তীতে ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে (Strangulation) মৃত্যু নিশ্চিত করে।
পুলিশি পদক্ষেপ ও মামলা দায়ের
ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছি। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের (Autopsy) জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড কি না, তা আমরা গুরুত্বের সাথে তদন্ত (Investigation) করছি।"
ওসি আরও জানান, এই ঘটনায় নিহতের স্বামী বিল্লাল খাঁন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম অভিযান শুরু করেছে।
নিরাপত্তা ও জনমনে উদ্বেগ
শান্তিপূর্ণ এলাকায় এমন দুঃসাহসিক চুরির পর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় চুরির উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় এই ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছে এলাকাবাসী।