সিলেটের জৈন্তাপুর সীমান্তে চোরাচালান বিরোধী অভিযানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ওপর হামলার ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। চোরাইপথে আসা ভারতীয় গরু জব্দের পর সেগুলো নিয়ে ফেরার পথে সংঘবদ্ধ চোরাকারবারিরা বিজিবি টহল দলের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এই ঘটনায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ মোট ৬১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (OC) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) সীমান্তের টিপরাখলা এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযানের প্রেক্ষাপট ও চোরাকারবারিদের আক্রমণ
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, জকিগঞ্জ বিজিবি ব্যাটালিয়নের আওতাধীন জৈন্তাপুর রাজাবাড়ী বিওপির (BOP) একটি টহল দল বুধবার সকালে সীমান্ত পিলারের ১২৮৮ নম্বর সংলগ্ন টিপরাখলা (ঘুড়িমারা) এলাকায় অভিযান চালায়। সীমান্ত রেখা থেকে প্রায় ১৫০ গজ ভেতরে বাংলাদেশের সীমানায় অবৈধভাবে নিয়ে আসা ৬টি ভারতীয় গরু জব্দ করতে সক্ষম হয় বিজিবি।
বিপত্তি ঘটে জব্দ করা গরুগুলো বিওপিতে নিয়ে যাওয়ার সময়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় চিহ্নিত চোরাকারবারি চক্রের একটি বড় দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাস্তা অবরোধ করে বিজিবি সদস্যদের ওপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে তারা টহল দলের ওপর হামলা চালালে বিজিবি সদস্য ল্যান্স নায়েক মো. ওমর ফারুক আহত হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিজিবি সদস্যরা কৌশলগত অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
মামলার বিবরণ ও আসামিদের তালিকা
এই ঘটনায় জৈন্তাপুর রাজাবাড়ী বিওপির হাবিলদার কামাল হোসেন বাদী হয়ে ৬১ জনকে আসামি করে জৈন্তাপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে ৩১ জন আসামির নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং বাকি ২৫ থেকে ৩০ জনকে রাখা হয়েছে অজ্ঞাতনামা তালিকায়।
উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন—মো. আলমাছ (৩২), মো. রায়হান (৩০), ডালিম মিয়া (৩৫), মো. সুজন (৩০), মো. কয়েজ (৩০), মো. সাইদুল (৩২), মো. আব্দুল (৩১), আবু হানিফ (৪০), মো. আলা উদ্দিন (৩২), মো. সালমান আহমদ বাবু (২৪), মো. ফয়সাল (২৯), মো. সাগর (২৬), মো. রহিম (২৮), মো. মিনহাজ (২৮), মো. আতিক (২৫), মো. ছালাম (২৯), মো. আব্দুল (৫০), ইসমাইল হোসেন বাছির (২৮), তানু আহমেদ (৩০), নুরু মিয়া (৩২), ইমন আহমদ (২৭), আমিন আহমদ (৩২), রিপন মিয়া (৩২), মো. জালাল উদ্দিন মনা (৪৫), আলমগীর (২৮), মো. আফছার (২৮), ইমন (৩০), মো. জসিম (৩০), মো. উজ্জ্বল (৩৮), মো. সাত্তার (৩৫) এবং মো. হেলাল (৩২)।
পুলিশি পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
জৈন্তাপুর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, “সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বিজিবির পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তা নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ অভিযান (Police Raid) চলমান রয়েছে।”
সীমান্তবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবির টহল আরও জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, ইদানীং ওই এলাকায় গরু চোরাচালান সিন্ডিকেটগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠায় এ ধরনের সংঘাতের ঘটনা ঘটছে।