• আন্তর্জাতিক
  • শিক্ষা সংস্কারে তরুণদের যুক্ত করার আহ্বান ইউনেস্কো প্রধানের: 'কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর সম্ভব'

শিক্ষা সংস্কারে তরুণদের যুক্ত করার আহ্বান ইউনেস্কো প্রধানের: 'কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর সম্ভব'

আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভায় ইউনেস্কো প্রধান সুজান ভাইজ তরুণদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার তাগিদ দেন, অন্যথায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
শিক্ষা সংস্কারে তরুণদের যুক্ত করার আহ্বান ইউনেস্কো প্রধানের: 'কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর সম্ভব'

তরুণদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত না করলে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সংস্কার সম্ভব নয়। ইউনেস্কোর হেড অব অফিস ও রিপ্রেজেন্টেটিভ টু বাংলাদেশ সুজান ভাইজ বলেন, তরুণদের শুধু নির্দেশনা দেওয়া নয়, বরং শিক্ষাব্যবস্থার অংশীদার হিসেবে যুক্ত করাই সময়ের দাবি। তিনি আরও উল্লেখ করেন, অষ্টম শ্রেণির ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থীর বাংলা ও গণিত দক্ষতার ঘাটতি উদ্বেগজনক।

সিদ্ধান্ত গ্রহণে তরুণদের অংশীদারিত্ব সময়ের দাবি

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে ইউনেস্কোর হেড অব অফিস ও রিপ্রেজেন্টেটিভ টু বাংলাদেশ সুজান ভাইজ এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ যে সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সেখানে তরুণদের আবেগ, দায়বদ্ধতা ও পরিবর্তন আনার সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের উদ্যোগ ও সম্পৃক্ততা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গঠনে শিক্ষা অপরিহার্য এবং এর প্রভাব ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজুড়ে বিস্তৃত।

শিক্ষাব্যবস্থায় উদ্বেগের কারণ

সুজান ভাইজ তার বক্তব্যে শিক্ষাব্যবস্থার একটি বড় চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তরুণরা ইতোমধ্যে বিজ্ঞান মেলা, স্কুলভিত্তিক উদ্ভাবনী কার্যক্রমসহ নানা সৃজনশীল উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছে। তবে ২০২৩ সালের সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, অষ্টম শ্রেণির ৫৪ শতাংশ শিক্ষার্থী বাংলা ভাষায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। গণিত দক্ষতার হার আরও কম, যা জীবনধারণের মৌলিক দক্ষতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি। ভাষাজ্ঞান ও গণনাজ্ঞানের এই ঘাটতিকে তিনি 'উদ্বেগজনক' বলে অভিহিত করেন।

ইউনেস্কোর দৃষ্টিভঙ্গি ও সমাধান

আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে সুজান ভাইজ বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার এসব দুর্বলতা চিহ্নিত করে সম্মিলিতভাবে সমাধানের পথ খোঁজাই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। ইউনেস্কোর যুব কর্মসূচির দর্শন হলো, তারা তরুণদের কেবল উপদেশগ্রহীতা হিসেবে নয়, বরং অংশীদার হিসেবে দেখে। তরুণরা মাঠে কাজ করতে চায় এবং নিজেদের ভাবনা ও প্রস্তাব তুলে ধরতে আগ্রহী। তাদের দাবি হলো— দক্ষতা, উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা ও সমালোচনামূলক চিন্তার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া। পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাদান পদ্ধতি উন্নয়নে তরুণদের বাস্তবসম্মত অনেক প্রস্তাব রয়েছে।

শিক্ষকদের নতুন ভূমিকা ও ইউনেস্কো-ইউনিসেফের উদ্যোগ

সুজান ভাইজ আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা সংস্কারে শিক্ষার্থীদের অংশীদার হিসেবে যুক্ত করা হলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই শিক্ষাব্যবস্থার কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর সম্ভব হবে। তিনি বলেন, শিক্ষকরা কেবল জ্ঞানদাতা নন, তারা পরামর্শক, দিকনির্দেশক ও শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশের সহযাত্রী। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী চার বছর শিক্ষক পেশাগত উন্নয়নে ইউনেস্কো ও ইউনিসেফ বিশেষ গুরুত্ব দেবে।

বাংলাদেশ জাতীয় ইউনেস্কো কমিশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল সারভীনা মনীরের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা ও বিএনসিইউ চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব এবং বিএনসিইউ সেক্রেটারি জেনারেল রেহানা পারভীন।

Tags: education system education reform bangladesh education unesco youth participation international education day suzan vize