• রাজনীতি
  • তৃণমূলে তারেক রহমান: নির্বাসন শেষে নতুন রূপে, প্রচারে আধুনিকতার ছোঁয়া

তৃণমূলে তারেক রহমান: নির্বাসন শেষে নতুন রূপে, প্রচারে আধুনিকতার ছোঁয়া

দেড় যুগের নির্বাসন শেষে দেশে ফিরে তারেক রহমান রাজনীতিতে এনেছেন আধুনিকতার ছোঁয়া। তিনি নীতিভিত্তিক প্রচারণা চালাচ্ছেন, তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি প্রশ্নোত্তরে অংশ নিচ্ছেন এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে জাতীয় ঐক্যের বার্তা দিচ্ছেন।

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
তৃণমূলে তারেক রহমান: নির্বাসন শেষে নতুন রূপে, প্রচারে আধুনিকতার ছোঁয়া

দীর্ঘ দেড় যুগের নির্বাসিত জীবন শেষে দেশে ফিরে এসেই দেশের রাজনীতিতে পরিবর্তনের ঢেউ তুলেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাবা জিয়াউর রহমান এবং মা খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই হাঁটছেন তিনি, তবে যোগ করেছেন নতুনত্ব। সাদামাটা ভঙ্গিমায় তৃণমূলে ছুটে চলা, যুক্তি দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা এবং তরুণ সমাজকে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখানোর মাধ্যমে এক 'অন্য তারেক রহমান' রূপে আবির্ভূত হয়েছেন তিনি। গতানুগতিক রাজনীতির বাইরে গিয়ে তাঁর আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক রূপরেখা দেশবাসীর নজর কেড়েছে।

পরিবর্তনের রাজনীতি ও জনগণের সঙ্গে সংযোগ

দেশের রাজনীতিতে ফিরে তারেক রহমান একের পর এক অভিনব, সৃজনশীল ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিবর্তনের ছাপ রাখছেন। মা খালেদা জিয়ার মৃত্যুশোক কাটিয়ে তিনি সরাসরি ভোটের মাঠে নেমেছেন। প্রভাবশালী দেশের শীর্ষ নেতাদের মতো তিনি রাষ্ট্রের নীতি নিয়ে নিজের ভাবনা জনগণের সঙ্গে ভাগাভাগি করছেন এবং হাসি-ঠাট্টার মাধ্যমে শ্রোতাদের মতামত নিচ্ছেন। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করছেন।

সমাবেশের মঞ্চে সাধারণ মানুষকে নিজের চেয়ারে বসানো, সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে করমর্দন করা—এগুলো দেশের রাজনীতিতে আগে খুব কমই দেখা গেছে। মাঠের সমাবেশ ও ভার্চুয়াল প্রচারণায় আধুনিকতার ছোঁয়া লাগিয়ে তিনি নিজেকে এক পরিপক্ব হবু রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর এই 'নতুন স্টাইল' তরুণ ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন কৌশল

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তারেক রহমান প্রচারণায় নতুনত্ব এনেছেন। তাঁর নির্বাচনী বহরে আধুনিক প্রযুক্তির বুলেটপ্রুফ বাস ও জিপ এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। ডিজিটাল স্ক্রিন ও সোশ্যাল মিডিয়া লাইভের মাধ্যমে তাঁর বার্তা মুহূর্তেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যাচ্ছে। ডিজিটাল মাধ্যমকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি তরুণ প্রজন্ম কেমন বাংলাদেশ চায়, সে বিষয়ে রিলস প্রতিযোগিতারও আয়োজন করেন।

সিলেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শুরু করে তিনি হযরত শাহজালাল ও জেনারেল এম এ জি ওসমানীর মাজার জিয়ারত এবং নফল নামাজ আদায় করেন। এরপর বিভিন্ন পেশার মানুষ ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের নিয়ে 'পলিসি ডায়ালগ'-এ নিজের ভাবনা তুলে ধরেন এবং তাদের মতামত শোনেন। তিনি কেবল মঞ্চে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছেন না, বরং তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি প্রশ্নোত্তরে অংশ নিচ্ছেন।

নীতিভিত্তিক প্রচার এবং প্রতিহিংসাহীন বার্তা

দীর্ঘ নির্বাসন সত্ত্বেও তারেক রহমানের বক্তব্যে কোনো তিক্ততা বা প্রতিহিংসার সুর নেই। তিনি বারবার বলছেন, 'বিগত সময়ের কষ্ট যেন আমাদের তিক্ত না করে। আমাদের লক্ষ্য এখন প্রতিহিংসা নয়, বরং জাতীয় ঐক্য।' তিনি সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন এবং নিজেকে একজন উদারপন্থি নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন।

তাঁর এবারের প্রচারণা অনেকটা পশ্চিমের দেশগুলোর মতো 'পলিসি-বেইজড'। তিনি বেকারত্ব দূর করতে কারিগরি শিক্ষা, দক্ষ জনশক্তি বিদেশে পাঠানো এবং কৃষির উন্নয়নে 'খাল খনন' কর্মসূচির আধুনিক সংস্করণ নিয়ে কথা বলছেন। মসজিদের ইমাম-খতিবদের জন্য সম্মানজনক ভাতা ও সামাজিক মর্যাদার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের বিরুদ্ধেও তিনি হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন এবং ধর্মভিত্তিক দলগুলোর রাজনৈতিক কৌশলের সমালোচনা করছেন।

এক মাসে দৃশ্যমান পরিবর্তন

দেশে ফেরার পর থেকেই তারেক রহমানের আচরণে বহু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবনের সর্বশেষ আলোচনা সভায় তিনি নিজের নামে স্লোগান না দেওয়ার আহ্বান জানান। ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে বিমানবন্দরে নেমেই খালি পায়ে মাটি স্পর্শ করেন। এরপর সিনিয়র নেতাদের নিয়ে বুলেটপ্রুফ জিপের পরিবর্তে বড় বাসে চড়ে গন্তব্যে যান। মঞ্চে রাখা বিশেষ চেয়ার সরিয়ে সাধারণ চেয়ারে বসে উদাহরণ তৈরি করেন। ২ জানুয়ারি সারা দেশে সব ব্যানার-পোস্টার তিন দিনের মধ্যে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।

এছাড়াও, ৯ জানুয়ারি গুলশানের বাসা থেকে হেঁটে দলীয় চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে যান। সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বেষ্টনী সরিয়ে নিতে বলেন এবং তাঁকে 'মাননীয়' সম্বোধন না করার অনুরোধ করেন। এমনকি মেডিকেলে প্রথম স্থান অধিকারী এক শিক্ষার্থীকে তিনি তাঁর কার্যালয়ে ডেকে এনে অভিনন্দন জানিয়ে বই উপহার দেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতা মনে করছেন, তারেক রহমান তাঁর মায়ের দেখানো পথেই দেশকে পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

Tags: tarique rahman bnp bangladesh politics election campaign khaleda zia new style policy dialogue