বিসিবির অস্বীকৃতি ও আইসিসির সিদ্ধান্ত
আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের নির্ধারিত ভেন্যুতে খেলতে আপত্তি জানায় বিসিবি। নিরাপত্তা উদ্বেগ থেকেই তাদের এই সিদ্ধান্ত। তবে আইসিসি বাংলাদেশের আপত্তিতে কর্ণপাত না করে স্কটল্যান্ডকে তাদের বিকল্প হিসেবে ঘোষণা করেছে। এ ধরনের ঘটনা আইসিসির টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এটি প্রথম নয়। এর আগেও রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে একাধিক দেশ একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল।
১৯৯৬ ওয়ানডে বিশ্বকাপ: শ্রীলঙ্কায় যেতে নারাজ অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ
১৯৯৬ সালে পাকিস্তান, ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধ চলছিল। টুর্নামেন্টের ঠিক আগে দেশটিতে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীলঙ্কায় গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। ফলস্বরূপ, এই দুটি দলকেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাদের ম্যাচ ছেড়ে দিতে হয়। শ্রীলঙ্কা পয়েন্ট অর্জন করে এবং শেষ পর্যন্ত সেই বছরই তাদের প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা জেতে।
২০০৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ: ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডের বর্জন
দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও কেনিয়ায় অনুষ্ঠিত হয় ২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ওই সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের সরকার জিম্বাবুয়ের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রবার্ট মুগাবের প্রশাসনের বিরোধিতা করছিল। ফলে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল জিম্বাবুয়েতে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। অন্যদিকে, নাইরোবিতে বোমা হামলার ঘটনার নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে নিউজিল্যান্ড কেনিয়ায় খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই দুটি দলই তাদের প্রতিপক্ষকে ওয়াকওভার প্রদান করে।
২০০৯ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: জিম্বাবুয়ের সরে দাঁড়ানো
২০০৯ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে। কারণ ছিল ইংল্যান্ডের সঙ্গে তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি। জিম্বাবুয়ের পরিবর্তে সেবার স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি: পাকিস্তানে যেতে ভারতের আপত্তি
২০২৫ সালের মার্চ মাসে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ভারত পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। এই পরিস্থিতিতে ভারতের ম্যাচগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আয়োজন করা হয়। পরবর্তীকালে ভারত সেই টুর্নামেন্টে শিরোপাও লাভ করে।