আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতিকে কেন্দ্র করে উত্তাল বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গন। নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক জটিলতার জেরে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় টাইগারদের ছাড়াই মাঠে গড়াতে যাচ্ছে কুড়ি ওভারের এই বৈশ্বিক আসর। আইসিসি (ICC) ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে মূল পর্বে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তবে এই সিদ্ধান্তকে কেবল একটি দলের পরিবর্তন হিসেবে দেখছে না ক্রিকেটারদের বৈশ্বিক সংগঠন ‘ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (WCA)। বাংলাদেশের মতো একটি শক্তিশালী ক্রিকেট পরাশক্তির বিশ্বকাপে না থাকাকে বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য এক ‘দুঃখজনক মুহূর্ত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে তারা।
স্কটল্যান্ডের অন্তর্ভুক্তি ও গ্রুপ বিন্যাস
বাংলাদেশ না থাকায় বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের সমীকরণ আমূল বদলে গেছে। ইংল্যান্ড, ইতালি, নেপাল এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গী হিসেবে এখন এই গ্রুপে লড়াই করবে স্কটল্যান্ড। অথচ এই স্থানটি ছিল লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের। মাঠের লড়াই শুরুর আগেই মাঠের বাইরের এই টানাপোড়েন বিশ্ব ক্রিকেটের নৈতিক কাঠামো নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ডব্লিউসিএ-র উদ্বেগ ও টম মোফাতের কড়া বার্তা
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ডব্লিউসিএ-র প্রধান নির্বাহী (CEO) টম মোফাত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “একটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের মতো মূল্যবান ক্রিকেট জাতির অনুপস্থিতি আমাদের খেলাধুলার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। এটি কেবল খেলোয়াড়দের জন্য নয়, বিশ্বের অগণিত বাংলাদেশি সমর্থকদের জন্যও অত্যন্ত বেদনার।”
ডব্লিউসিএ মনে করে, ক্রিকেটের শক্তি নিহিত থাকে এর অন্তর্ভুক্তিতে। প্রতিটি দেশ এবং প্রতিটি অ্যাথলেটকে যখন যথাযথ সম্মান (Dignity) এবং ধারাবাহিকভাবে সমর্থন দেওয়া হয়, তখনই ক্রিকেট তার শ্রেষ্ঠ রূপে আবির্ভূত হয়। বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সুযোগ না পাওয়াকে তাই খেলাটির বিশ্বজনীন আবেদনের অন্তরায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈশ্বিক ক্রিকেটের কাঠামোগত সংকট
বিবৃতিতে কেবল বাংলাদেশের প্রসঙ্গই নয়, বরং বিশ্ব ক্রিকেটের বর্তমান নেতিবাচক প্রবণতাগুলো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডব্লিউসিএ। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে যে, বর্তমান ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রেই খেলোয়াড়দের চুক্তি রক্ষা করা হচ্ছে না এবং তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে খেলোয়াড় বা তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনার অভাব দেখা দিচ্ছে।
ডব্লিউসিএ-র মতে, এই উদাসীনতা ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ। যথাযথ পরামর্শ ও সহযোগিতার অভাব আস্থার সংকট তৈরি করছে, যা শেষ পর্যন্ত খেলাটির ঐক্য ও ভবিষ্যৎকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান: বিভাজন নয়, ঐক্য চাই
ক্রিকেট বিশ্বের নীতিনির্ধারকদের প্রতি ডব্লিউসিএ এক জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলছে, ‘বিভাজন’ বা ‘বর্জন’-এর রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে আইসিসি ও বিভিন্ন দেশের গভর্নিং বডিগুলোকে (Governing Body) একযোগে কাজ করতে হবে। খেলাটিকে বিভক্ত না করে ঐক্যবদ্ধ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এই বিবৃতিতে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্টে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি কেবল একটি নির্দিষ্ট টুর্নামেন্টের ক্ষতি নয়, বরং এটি বৈশ্বিক পর্যায়ে ক্রিকেটের বাণিজ্যিক ও দর্শকপ্রিয়তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ডব্লিউসিএ-র এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে ক্রিকেট বিশ্বের অভিভাবক সংস্থাগুলো ভবিষ্যতের সংকট মোকাবিলায় কতটা আন্তরিক হয়।