• রাজনীতি
  • ‘স্যার’ ডাকের দেয়াল ভাঙতে চান তারেক রহমান: ‘ভাইয়া’ সম্বোধনে স্বাচ্ছন্দ্য, তারুণ্যের সঙ্গে নতুন রাজনীতির বার্তা

‘স্যার’ ডাকের দেয়াল ভাঙতে চান তারেক রহমান: ‘ভাইয়া’ সম্বোধনে স্বাচ্ছন্দ্য, তারুণ্যের সঙ্গে নতুন রাজনীতির বার্তা

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
‘স্যার’ ডাকের দেয়াল ভাঙতে চান তারেক রহমান: ‘ভাইয়া’ সম্বোধনে স্বাচ্ছন্দ্য, তারুণ্যের সঙ্গে নতুন রাজনীতির বার্তা

চট্টগ্রামে ‘ইয়ুথ পলিসি টক’-এ নতুন প্রজন্মের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় বিএনপির চেয়ারম্যানের; রাজনীতিতে দোষারোপের সংস্কৃতি পরিহার ও স্টুডেন্ট লোন চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নেতা ও কর্মীদের মধ্যকার প্রথাগত ‘প্রটোকল’ বা দূরত্বের দেয়াল ভেঙে নতুন এক নজির সৃষ্টি করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বন্দরনগরী চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে তরুণদের নিয়ে আয়োজিত ‘ইয়ুথ পলিসি টক’ (Youth Policy Talk) অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘স্যার’ নয় বরং ‘ভাইয়া’ সম্বোধনই তাঁর কাছে বেশি প্রিয়।

‘স্যার’ সংস্কৃতি বনাম নতুন প্রজন্মের হৃদ্যতা

অনুষ্ঠানের প্রশ্নোত্তরের পর্বে এক তরুণী তারেক রহমানকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন করে তাঁর বক্তব্য শুরু করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই তাকে থামিয়ে দিয়ে স্মিত হাস্যে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “আপনি বা আপনারা যারা আমাকে প্রশ্ন করবেন, হয় আমাকে ‘ভাইয়া’ বলতে পারেন, অথবা ‘আংকেল’ বলতে পারেন।”

তারেক রহমানের এই স্বতস্ফূর্ত মন্তব্যের পর পুরো মিলনায়তন করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে। উপস্থিত তরুণ-তরুণীদের উচ্ছ্বাসের মুখে তিনি রসিকতা করে আরও যোগ করেন, “বয়সের হিসাবে ‘আংকেল’ বলতে পারেন। তবে ‘আংকেল’ ডাকটি শুনতে খুব একটা পছন্দ করব না। ‘ভাইয়া’ বললে ভালো লাগবে, ‘স্যার’ বলার দরকার নেই।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব থাকে, তারেক রহমানের এই অবস্থান সেটি কমিয়ে আনার একটি আধুনিক ও 'Interactive' কৌশল।

দোষারোপের রাজনীতি থেকে উত্তরণের পথ

কেবল সম্বোধন নয়, রাজনীতির প্রচলিত ধারা বদলানোর বিষয়েও তরুণদের সঙ্গে গভীর আলোচনা করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “রাজনীতি করতে গিয়ে আমরা দীর্ঘকাল একে অপরকে কেবল দোষারোপ করে এসেছি। এই 'Blame Game' বা নেতিবাচক ধারার রাজনীতি থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে চাই।”

তিনি বর্তমান সময়ের মেধাবী তরুণদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশ গড়ার সঠিক 'Roadmap' তৈরি করতে তিনি তরুণ প্রজন্মের গঠনমূলক পরামর্শ ও 'Feedback' নিতে চান। তাঁর মতে, আগামীর বাংলাদেশ হবে মেধা ও প্রযুক্তিনির্ভর, যেখানে রাজনীতির মূল লক্ষ্য হবে সেবা এবং উন্নয়ন।

শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্টুডেন্ট লোন’ ও ভবিষ্যতের রূপরেখা

অনুষ্ঠানে বিদেশে উচ্চশিক্ষারত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আর্থিক সংকটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। তারেক রহমান জানান, অনেক শিক্ষার্থী বিদেশের মাটিতে পড়াশোনা করতে গিয়ে ‘Financial Constraints’ বা আর্থিক টানাপোড়েনে পড়েন। তাদের উচ্চশিক্ষা নির্বিঘ্ন করতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সহজ শর্তে ‘Student Loan’ বা শিক্ষা ঋণ চালুর পরিকল্পনা করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মেধাবী সন্তানরা যাতে অর্থের অভাবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়ে, সেজন্য রাষ্ট্রকে ইনভেস্টর (Investor) হিসেবে ভূমিকা রাখতে হবে। এই পলিসি বা নীতিমালার মাধ্যমে একটি দক্ষ ও শিক্ষিত ‘Human Resource’ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

চট্টগ্রামের এই ‘ইয়ুথ পলিসি টক’ অনুষ্ঠানে তারেক রহমান মূলত এক নতুন রাজনৈতিক ন্যারেটিভ (Narrative) প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিয়েছেন, যেখানে ক্ষমতার চেয়ে জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং স্মার্ট ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামোকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

Tags: political reform bangladesh politics chittagong tareq rahman bnp news youth policy student loan youth engagement radisson blu policy talk