• আন্তর্জাতিক
  • তুষারঝড় ও বৃষ্টির কবলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত আফগানিস্তান: ৩ দিনে নিহত ৬১, বিদ্যুৎহীন রাজধানীসহ ১২ প্রদেশ

তুষারঝড় ও বৃষ্টির কবলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত আফগানিস্তান: ৩ দিনে নিহত ৬১, বিদ্যুৎহীন রাজধানীসহ ১২ প্রদেশ

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
তুষারঝড় ও বৃষ্টির কবলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত আফগানিস্তান: ৩ দিনে নিহত ৬১, বিদ্যুৎহীন রাজধানীসহ ১২ প্রদেশ

হিমাঙ্কের নিচের তাপমাত্রায় ফ্রস্টবাইটে মৃত্যু, বিধ্বস্ত শত শত ঘরবাড়ি; যোগাযোগ ও উত্তরবঙ্গের সাথে সড়ক বিচ্ছিন্ন জনপদে ঘনীভূত হচ্ছে নতুন মানবিক সংকট।

প্রকৃতির রুদ্ররূপে থমকে গেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের জনজীবন। গত তিন দিনের টানা তুষারপাত (Snowfall) এবং প্রবল বর্ষণে দেশটিতে অন্তত ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ANDMA) জানিয়েছে, গত বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের প্রদেশগুলোতে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। কেবল মৃত্যু নয়, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ১১০ জন আহত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত ৪৫৮টি ঘরবাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে, যা দেশটিতে একটি নতুন ‘Humanitarian Crisis’ বা মানবিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত ঘরবাড়ি ও ফ্রস্টবাইটে মৃত্যু

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, নিহতদের বড় অংশই প্রাণ হারিয়েছেন তুষারস্তূপের ভারে ঘরবাড়ির ছাদ ধসে। এছাড়া পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে (Below Freezing) নেমে যাওয়ায় 'Frostbite' বা ঠাণ্ডার কামড়ে অনেকের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ কান্দাহারে এক মর্মান্তিক ঘটনায় বাড়ির ছাদ ধসে অন্তত ছয়টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা স্থানীয় জনপদকে শোকাতুর করে তুলেছে।

অন্ধকারে ১২ প্রদেশ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কাবুল

প্রবল তুষারপাতের ফলে আফগানিস্তানের লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত গুরুত্বপূর্ণ সালাং মহাসড়কসহ (Salang Highway) বেশ কিছু প্রধান সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোর সঙ্গে রাজধানী কাবুলের সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এই 'Road Blockage' বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও এই দুর্যোগের হাত থেকে রেহাই পায়নি। উজবেকিস্তান থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুতের একটি প্রধান 'Transmission Line' ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাবুলসহ প্রায় ১২টি প্রদেশ বর্তমানে ‘Blackout’ বা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। আফগানিস্তানের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ডিএবিএস (DABS) জানিয়েছে, তাদের প্রকৌশলী দল প্রস্তুত থাকলেও তুষারাবৃত দুর্গম রাস্তায় যাতায়াত সম্ভব না হওয়ায় মেরামত কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।

পাহাড়ি পথে আটকা পড়া পর্যটক ও গবাদিপশুর মৃত্যু

বামিয়াং প্রদেশের পাহাড়ি দুর্গম পথে অসংখ্য পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা আটকা পড়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো তাদের কাছে জরুরি শুকনো খাবার পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তুষারপাতের ফলে কেবল মানুষেরই নয়, বিপুল সংখ্যক গবাদিপশু মারা গেছে এবং অসংখ্য গ্রামীণ বাজার বা দোকানপাট ধসে পড়েছে। এনডিএমএ-র এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কবার্তা জারি করে বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া তুষারাবৃত সড়কে যাতায়াত না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

মানবিক বিপর্যয়ের মুখে যুদ্ধবিধ্বস্ত জনপদ

দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ এবং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত আফগানিস্তানের জন্য এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ এক মরণকামড় হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশটির ৪ কোটি জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকেরই জরুরি 'Emergency Aid' বা মানবিক সহায়তা প্রয়োজন হবে। শীতকালীন এই তুষারপাত দেশটির কৃষির জন্য দীর্ঘমেয়াদে আশীর্বাদ হতে পারত, কিন্তু পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও প্রস্তুতির অভাবে তা এখন একটি 'Massive Disaster'-এ রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রবাহ কমে আসায় এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা বর্তমান জান্তা সরকারের জন্য এক কঠিন ‘Governance Challenge’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আফগান জনগণ এখন প্রকৃতির এই নিষ্ঠুরতা এবং ভেঙে পড়া অর্থনীতির দ্বিমুখী লড়াইয়ে টিকে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।

Tags: humanitarian crisis natural disaster cold wave afghanistan weather snowfall death kabul blackout andma report frostbite cases house collapse afghanistan news