কুষ্টিয়া: জাতীয় নির্বাচনী প্রচারণার (Election Campaign) পঞ্চম দিনে আজ খুলনা বিভাগে ব্যাপক গণসংযোগ ও সাংগঠনিক সফর শুরু করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে কুষ্টিয়ার ঐতিহাসিক শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে বিশাল এক জনসভায় যোগদানের মাধ্যমে তার এই সফর শুরু হয়।
জনসমুদ্রে পরিণত কুষ্টিয়া স্টেডিয়াম
সকাল থেকেই কুষ্টিয়া জেলাসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ মিছিল নিয়ে সভাস্থলে আসতে শুরু করেন। ব্যানার, ফেস্টুন আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম এলাকা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জনসভাকে এক বিশাল জনসমুদ্রে (Public Rally) পরিণত করেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াত আমিরের এই সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
উন্নয়ন বঞ্চনার ক্ষোভ ও নতুন প্রত্যাশা
জনসভায় আগত সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই অঞ্চলের উন্নয়ন নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিগত সরকারগুলো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্প-কারখানা ও অবকাঠামো উন্নয়নে (Infrastructure Development) কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিক্ষুব্ধ জনতা ডা. শফিকুর রহমানের কাছে তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা তুলে ধরছেন এবং একটি টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার (Development Agenda) দাবি জানাচ্ছেন। জামায়াত আমিরের আগমনে তারা নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছেন, যেখানে কৃষিভিত্তিক কুষ্টিয়া ও বাণিজ্যিক শহর খুলনার সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্র বদলে যাবে।
দিনভর চার জেলায় ঠাসা কর্মসূচি
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ডা. শফিকুর রহমানের আজকের সফরসূচি অত্যন্ত ব্যস্ত। কুষ্টিয়ার জনসভা শেষ করে তিনি পর্যায়ক্রমে চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং খুলনা বিভাগের আরও একটি জেলায় একাধিক জনসভা ও পথসভায় অংশ নেবেন। এই সফরের মাধ্যমে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে দলের সাংগঠনিক শক্তি পরীক্ষা এবং সাধারণ ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে (Political Landscape) জামায়াত আমিরের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের জনসমর্থন (Grassroots Support) প্রমাণ করা এবং নির্বাচনী ইশতেহারের মূল বিষয়গুলো সরাসরি জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই সফরের মূল লক্ষ্য।
ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।