টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ডামাডোল শুরু হতে না হতেই বিশ্ব ক্রিকেটে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ। ভারতে নিরাপত্তার অজুহাতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) ইতিমিধ্যেই টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে। এই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন টানাপোড়েন। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (PCB) চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করলেও, শেষ পর্যন্ত বাবর আজমরা ভারতের মাটিতে খেলতে যাবেন কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঝুলে আছে সরকারের ওপর।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ঘি ঢাললেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার বাসিত আলী। তার দাবি, পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ বয়কট করে, তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলো (Broadcasters) চরম আর্থিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে, এমনকি তারা দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে।
সম্প্রচারকদের ‘অস্তিত্ব সংকট’ ও বাজারমূল্যের সমীকরণ
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক আলোচনায় বাসিত আলী ক্রিকেট বিশ্বের বাণিজ্যিক সমীকরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপে না খেলে, তবে সম্প্রচারকারীরা দেউলিয়া হয়ে যাবে। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ। এই একটি ম্যাচ থেকে যে পরিমাণ রেভিনিউ (Revenue) এবং ভিউয়ারশিপ (Viewership) আসে, তা অন্য কোনো ম্যাচ থেকে সম্ভব নয়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “পাকিস্তান সরে গেলে তাদের জায়গায় আইসিসি কাকে খেলাবে? ভারত যদি অন্য কোনো বিকল্প দলের বিপক্ষে খেলে, তবে কি সেই ম্যাচ ভারত-পাকিস্তান মহারণের মতো দর্শক টানতে পারবে? মোটেও না। এতে টেলিভিশন স্বত্বের বাজারমূল্য (Market Value) ধসে পড়বে।”
বাংলাদেশ ইস্যু ও সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা
ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক বৈরিতার জেরে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ দীর্ঘদিন বন্ধ। তবে আইসিসি ইভেন্টে দেশ দুটি একে অপরের মুখোমুখি হয়ে আসছিল। কিন্তু বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তান সরকারও নতুন করে ভাবছে। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি স্পষ্ট জানিয়েছেন, জাতীয় দল ভারতের মাটিতে খেলতে যাবে কি না, তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়।
এ প্রসঙ্গে বাসিত আলী বলেন, “পাকিস্তানের উচিত সরাসরি টুর্নামেন্ট বয়কট না করা। তবে যদি সরকার মনে করে যে বাংলাদেশের নেওয়া অবস্থানকে সমর্থন জানানো প্রয়োজন, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। আমাদের তো ভারতের মাটিতে খেলতে হচ্ছে না (আগে থেকেই নির্ধারিত), কিন্তু নিরাপত্তার ইস্যুটি এখন অনেক বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
আইসিসি-র নিষেধাজ্ঞার খাঁড়া
এদিকে পাকিস্তান যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ বয়কট করে, তবে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি (ICC) কঠোর অবস্থান নিতে পারে। গুঞ্জন রয়েছে, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া বিশ্বকাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করলে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের ওপর দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞা এবং বিপুল অংকের জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। এই শাস্তির ফলে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ ক্রিকেট সূচি এবং আর্থিক অনুদান ঝুঁকির মুখে পড়বে।
বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এমন অবস্থানে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে আইসিসি। ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন ইসলামাবাদ ও দুবাইয়ের দিকে—আসলে শেষ পর্যন্ত কি ভারতের মাটিতে দেখা যাবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের মাঠের লড়াই? নাকি সম্প্রচারকারীদের দেউলিয়া হওয়ার শঙ্কা সত্যি হতে চলেছে?