কক্সবাজার ও মহেশখালীর মধ্যবর্তী অত্যন্ত ব্যস্ত নৌরুটে ফের ঘটল এক প্রাণঘাতী নৌ-দুর্ঘটনা। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে মাঝনদীতে দুই স্পিডবোটের (Speedboat) মুখোমুখি সংঘর্ষে এক অজ্ঞাত পরিচয় নারীর (৫০) মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় অন্তত ১৮ জন যাত্রী পানিতে তলিয়ে গেলেও স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক ও রুদ্ধশ্বাস তৎপরতায় তাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
দুর্ঘটনার নেপথ্যে যান্ত্রিক ত্রুটি ও নিয়ন্ত্রণহীন গতি
প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘাট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সোমবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে মহেশখালীর গোরকঘাটা ঘাট থেকে যাত্রী বোঝাই করে দুটি স্পিডবোট একই সময়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথিমধ্যে বাঁকখালী নদীর মোহনায় পৌঁছালে সামনের বোটটির ইঞ্জিন হঠাত বিকল হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আসা অপর একটি স্পিডবোট নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনের স্থির বোটটিকে সজোরে আঘাত করে। সংঘর্ষের তীব্রতায় মুহূর্তের মধ্যেই দুটি বোট উল্টে যায় এবং যাত্রীরা উত্তাল নদীতে ছিটকে পড়েন।
১৮ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার, হাসপাতালে নারীর মৃত্যু
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় স্পিডবোট চালক সমিতি, পার্শ্ববর্তী ট্রলার ও জেলেরা দ্রুত উদ্ধার অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়েন। নৌরুট স্পিডবোট চালক সমিতির সভাপতি মো. দিদারুল ইসলাম জানান, "আমরা খবর পাওয়ামাত্রই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১৮ জনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হই। তবে একজনকে অত্যন্ত মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।"
উদ্ধারকৃত অন্য যাত্রীরা বর্তমানে শঙ্কামুক্ত থাকলেও তাদের মধ্যে অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
তদন্তে বিআইডব্লিউটিএ ও পুলিশ
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমিউদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মৃত নারীর পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ তার পরিচয় শনাক্তের জন্য স্থানীয়ভাবে খোজখবর নিচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (BIWTA) কক্সবাজার নদী বন্দর কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াকিল জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ামাত্র বিআইডব্লিউটিএ-এর একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি চালকের অবহেলা ছিল, তা খতিয়ে দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ব্যস্ত নৌরুটে মাঝেমধ্যেই স্পিডবোটের ওভারস্পিডিং (Over-speeding) ও ফিটনেসবিহীন ইঞ্জিনের কারণে দুর্ঘটনার অভিযোগ উঠে থাকে। আজকের এই মর্মান্তিক ঘটনা যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে পুনরায় প্রশ্ন তুলেছে।