দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের মঞ্চে ফের একবার স্বপ্নভঙ্গ হলো বাংলাদেশের। সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকার জন্য ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল ‘Do or Die’ বা বাঁচা-মরার লড়াই। কিন্তু চাপের মুখে ব্যাটিং অর্ডারের চরম ব্যর্থতায় সেই লড়াইয়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে ইংল্যান্ডের কাছে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে সুপার সিক্স পর্ব থেকেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেল জাওয়াদ আবরার-আজিজুল হাকিম তামিমদের।
ব্যাটিং বিপর্যয়ে লণ্ডভণ্ড টপ অর্ডার
টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের প্রথম বলেই শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার জাওয়াদ আবরার। শুরুর সেই ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন আজিজুল হাকিম তামিম ও রিফাত বেগ। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে তারা স্কোরবোর্ডে ৬৪ বলে ৪৬ রান যোগ করেন। কিন্তু দলীয় ৫৩ রানে রিফাত (৩১) আউট হওয়ার পরই শুরু হয় তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া।
এক সময় ১ উইকেটে ৫৩ রান থাকা বাংলাদেশের স্কোর কার্ড মুহূর্তেই ৫ উইকেটে ৯৯ রানে পরিণত হয়। ইংলিশ বোলার সেবাস্তিয়ান মরগানের তোপে কোনো ব্যাটারই উইকেটে থিতু হতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৩৮.১ ওভারে মাত্র ১৩৬ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। তামিম ২০ এবং আব্দুল্লাহ ২৫ রান করলেও মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডারের ব্যর্থতায় লড়াকু পুঁজি গড়তে ব্যর্থ হয় যুবা টাইগাররা। ইংল্যান্ডের পক্ষে মরগান ৩টি এবং রালফি আলবার্ট ও ম্যানি লুমসডেন ২টি করে উইকেট নেন।
ইংলিশদের দাপুটে রান তাড়া ও থমাস রেউয়ের ক্যাপ্টেন’স নক
১৩৭ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটাও খুব একটা স্বস্তির ছিল না। মাত্র ৩ রানেই জোসেফ মুরেসেক উইকেট হারায় তারা। তবে দ্বিতীয় উইকেটে ডাউকিন্স ও বেন মায়েস ৩৬ রান যোগ করে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন। ডাউকিন্সকে (২৭) আল ফাহাদ ফেরালেও সেটি জয়ের পথে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
অধিনায়ক থমাস রেউ দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। তিনি ৫০ বলে ৫৯ রানের একটি ঝকঝকে অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তার এই Captain’s Knock-এ ভর করে ২৫.৫ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। ১৫৫ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয় ইংলিশদের সেমিফাইনালের পথে এগিয়ে দিলেও বাংলাদেশের জন্য টুর্নামেন্টের সমাপ্তি ডেকে আনে। বাংলাদেশের হয়ে আল ফাহাদ ২টি উইকেট শিকার করেন।
পয়েন্ট টেবিলের মারপ্যাঁচ ও বিদায়ের সমীকরণ
সুপার সিক্সের জটিল সমীকরণে বাংলাদেশ আগে থেকেই কিছুটা পিছিয়ে ছিল। গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছে হার এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে এই পর্ব শুরু করেছিল টাইগাররা। অন্যদিকে, ভারত ও ইংল্যান্ড ৪ পয়েন্ট নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু হারের ফলে সেই গাণিতিক সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে গেছে। ৩১ জানুয়ারি হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটি এখন কেবলই আনুষ্ঠানিকতা বা Dead Rubber-এ পরিণত হয়েছে।
২০২০ পরবর্তী খরা ও ভবিষ্যৎ ভাবনা
২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছিল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। কিন্তু সেই সোনালি সময়ের পর গত তিনটি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স গ্রাফ ছিল নিম্নমুখী। কোনো আসরেই সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি তারা। এবারের আসরেও ব্যাটিং ব্যর্থতা এবং ধারাবাহিকতার অভাব প্রকটভাবে ধরা পড়েছে। বিশ্বজয়ের স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছাড়লেও সুপার সিক্স থেকেই খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে যুবা টাইগারদের।