• আন্তর্জাতিক
  • ‘গাজায় আর কোনো বন্দি নেই’, রন গিভিলির দেহাবশেষ উদ্ধারের পর বড় ঘোষণা ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর

‘গাজায় আর কোনো বন্দি নেই’, রন গিভিলির দেহাবশেষ উদ্ধারের পর বড় ঘোষণা ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
‘গাজায় আর কোনো বন্দি নেই’, রন গিভিলির দেহাবশেষ উদ্ধারের পর বড় ঘোষণা ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর অপহৃত ২৫১ জনকেই (জীবিত বা মৃত) ফিরিয়ে আনার দাবি আইডিএফ-এর; পরবর্তী লক্ষ্য হামাসের নিরস্ত্রীকরণ।

গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে চলা জিম্মি সংকটের অবসান ঘটেছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করল ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF)। ফিলিস্তিনি এই ভূখণ্ড থেকে তাদের সবশেষ জিম্মির দেহাবশেষ উদ্ধার করার মাধ্যমে এই উদ্ধার প্রক্রিয়ার সমাপ্তি টানা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী নিশ্চিত করেছে যে, গাজায় বর্তমানে আর কোনো ইসরাইলি জিম্মি অবস্থায় নেই।

রণ গিভিলির উদ্ধার ও শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান

ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গাজায় থাকা সবশেষ বন্দি রন গিভিলির (Ron Givli) দেহাবশেষ উদ্ধারের জন্য গত রোববার (২৫ জানুয়ারি) গাজা উপত্যকার একটি কবরস্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ইন্টেলিজেন্স তথ্যের ভিত্তিতে চালানো এই সুনির্দিষ্ট অভিযানে তার দেহাবশেষ পাওয়ার পর তা ইসরাইলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলের দক্ষিণ সীমান্তে হামাসের অতর্কিত হামলার সময় রন গিভিলিসহ মোট ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ইসরাইলের দাবি, দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন সামরিক অভিযান এবং বন্দি বিনিময় চুক্তির মাধ্যমে এই ২৫১ জনের প্রত্যেককে—সে জীবিত হোক বা মৃত—ইসরাইলে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

নেতানিয়াহুর নতুন হুঙ্কার: লক্ষ্য এখন নিরস্ত্রীকরণ

জিম্মি সংকটের তথাকথিত অবসান ঘটার পর এবার গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিয়ে নিজেদের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রন গিভিলির দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘোষণার পরপরই ইসরাইলি পার্লামেন্টে (Knesset) বক্তব্য রাখেন তিনি।

নেতানিয়াহু সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, গাজার বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা পুনর্গঠন বা Reconstruction-এর চেয়ে হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ (Demilitarization) করার ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমাদের এই পর্যায়কে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আগ্রহ আছে, বিলম্বিত করার নয়। গাজা উপত্যকাকে পুরোপুরি সামরিকমুক্ত করাই হবে আমাদের পরবর্তী প্রধান ধাপ।”

মানবিক সংকট ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

ইসরাইল তাদের সব জিম্মিকে ফিরিয়ে আনার দাবি করলেও গাজায় চলমান যুদ্ধ ও মানবিক পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সব জিম্মি উদ্ধার হওয়ার দাবি সত্য হলে ইসরাইল এখন হামাস নির্মূলের নামে গাজার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে পারে। হামাস অবশ্য ইসরাইলের এই দাবির প্রেক্ষিতে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জিম্মি ইস্যুটির অবসান ঘটলে ইসরাইলের ভেতরে চলমান অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে গাজাকে ‘ডি-মিলিটারাইজড জোন’ বানানোর যে ঘোষণা নেতানিয়াহু দিয়েছেন, তা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী শান্তিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েই যাচ্ছে।

Tags: middle east gaza war military operation israel gaza hostage crisis idf announcement ron givli hamas conflict netanyahu statement hostage recovery