ঝিনাইদহে জামায়াত আমিরের জনসভা
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। বক্তৃতার শুরুতেই তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে শহীদ ওসমান হাদির ইনকিলাব মঞ্চ ও জামায়াতের পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
আন্দোলনে হতাহতদের প্রতি সমবেদনা ও সরকারের সমালোচনা
জামায়াত আমির তাঁর বক্তৃতায় বিগত আন্দোলনে স্বামী, স্ত্রী, সন্তান, বোন ও পিতাকে হারানোদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, 'যারা বিগত আন্দোলনে স্বজনদের হারিয়েছেন, আমি তাদের হয়ে আপনার সামনে দাঁড়িয়েছি।' তিনি প্রশ্ন করেন— যাদের তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তাদের অপরাধ কী ছিল? সন্তান হারানো মায়েদের আহাজারি সহ্য করা যায়নি। অনেক স্বজনের এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করে বলেন, 'পকেট থেকে জোর করে টাকা নেওয়া হয়েছে, চাঁদাবাজি করা হয়েছে। সেই ফ্যাসিবাদ বাংলায় আবার ফিরে আসুক আপনারা কি তা চান?' তিনি নিহত সোহানের মায়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, 'তোমরা আমার সন্তানকে মেরেছো ঠিক আছে, কিন্তু তার চোখ দুটি কেন তুলে নিলে?'
ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা ও নির্বাচনী অঙ্গীকার
মাত্র ২৩ মিনিটের বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে তার একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি ক্ষমতায় গেলে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন এবং দক্ষ জনবল দিয়ে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। বেকার সমস্যার সমাধানে প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ করা হবে বলে তিনি জানান।
দুর্নীতি ও লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্রের সম্পদ লুটপাট করা হয়েছে। জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় গেলে লুটকারীদের পেট থেকে সব সম্পদ বের করে আনা হবে। তিনি বলেন, 'আমরা দুর্নীতিকে লালকার্ড দেখাতে চাই।' দুর্নীতিবাজদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'তোমাদের লজ্জা করে না। দুর্নীতি ছেড়ে দাও, নইলে রাস্তায় গিয়ে ভিক্ষা করো। চাঁদাবাজির থেকে ভিক্ষা করা সম্মানের।'
নির্বাচনী ব্যালট বিপ্লবের ডাক
উপস্থিত জনতার উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, এ জাতির সন্তানরা যুগে যুগে রক্ত দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লব করে দেশের উন্নয়নে বিপ্লব করতে হবে। জনসভা শেষে তিনি ঝিনাইদহের চার সংসদীয় আসনের ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লার প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন।