দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ (Business and Investment)-এর সঙ্গে জড়িত ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে একীভূতকরণের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল করার লক্ষ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো: বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা), বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপি অথরিটি) এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।
গভর্নিং বোর্ডের সভায় নীতিগত অনুমোদন লাভ
বিডা-র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন হারুন সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ-এর চতুর্থ গভর্নিং বোর্ড সভায় এই একীভূতকরণের (Merger) প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সভায় প্রধান উপদেষ্টা ও গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন।
বিডা-র নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের অনেকগুলো ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন এজেন্সি (Investment Promotion Agency) আছে—মোট ছয়টি। এগুলো একীভূতকরণের একটি প্রপোজাল (Proposal) আগের গভর্নিং বোর্ডে গিয়েছিল। এরপর একটি উপদেষ্টা কমিটি করে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে বেশ কজন উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অ্যাটর্নি জেনারেল অনেকেই ছিলেন। তাঁরা সবাই মিলে একটি রেকমেন্ডেশন করেছেন যে, নীতিগতভাবে আমরা একীভূতকরণকে অনুমোদন করেছি।”
**বাস্তবায়ন করবে আগামী সরকার: নিরপেক্ষ পরামর্শক দিয়ে নতুন অর্গানাইজেশনাল ডিজাইন
আশিক চৌধুরী জানান, এই একীভূতকরণ আপাতত একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত। আগামী সরকার এসে এটিকে বাস্তবায়ন করবে। একীভূতকরণটি কীভাবে হবে, সে ব্যাপারেও একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনি বলেন, “একটি ইন্ডিপেন্ডেন্ট থার্ড পার্টি কনসালট্যান্ট (Independent Third Party Consultant)-কে দিয়ে আমরা নতুন অর্গানাইজেশনের ডিজাইন (Organizational Design) করব, যাতে এই ছয়টি এজেন্সির কেউই কোনো অ্যাডিশনাল সুবিধা বা কোনো ধরনের আলাদা করে কোনো ধরনের ট্রিটমেন্ট না পান।” এই নিরপেক্ষ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান একীভূতকরণের পুরো প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছতার সাথে পরিচালনা করবে।
বিডা-র নির্বাহী চেয়ারম্যান আরও নিশ্চিত করেন, “একীভূতকরণটা প্রাইমারিলি গভর্নমেন্ট ইজ এগ্রিড যে ভবিষ্যতে আসলে এসব এজেন্সি একটি এজেন্সিতে পরিণত হবে।” এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের লক্ষ্য হলো, দেশের ব্যবসা পরিবেশ (Business Environment)-কে আরও সহজ করা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য 'ওয়ান স্টপ সার্ভিস (One Stop Service)'-এর সুবিধা নিশ্চিত করা। এই কাঠামোগত সংস্কার (Structural Reform) দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।