বলিউডের 'হি-ম্যান' খ্যাত বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র গত বছরের ২৪ নভেম্বর প্রয়াত হন। তাঁর মৃত্যুর পর এবার ভারত সরকার তাঁকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা 'পদ্মবিভূষণ'-এ ভূষিত করল।
পরিবারের আবেগ ও প্রতিক্রিয়া
অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর স্ত্রী এবং প্রখ্যাত অভিনেত্রী-চিত্রনির্মাতা হেমা মালিনী সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর গর্ববোধের কথা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, 'সিনেমা জগতে ধর্মেন্দ্রর অপরিসীম অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে মর্যাদাপূর্ণ পদ্মবিভূষণ পুরস্কারে ভূষিত করেছে সরকার, এজন্য আমি খুবই গর্বিত।'
ধর্মেন্দ্রর মেয়ে এশা দেওলও বাবার এই সম্মানে খুশি। তিনিও সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, 'বাবা মর্যাদাপূর্ণ পদ্মবিভূষণ পাওয়ায় আমরা সত্যিই খুশি।' প্রয়াত এই অভিনেতার পরিবার এই মরণোত্তর সম্মানে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত।
ছয় দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার
দীর্ঘ ছয় দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ধর্মেন্দ্র প্রায় ৩০০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমা। ১৯৬০ সালে 'দিল ভি তেরা হাম ভি তেরে' সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে তাঁর যাত্রা শুরু হয়।
যদিও ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ বছর (১৯৬৫ সাল পর্যন্ত) প্রায় ২০টির বেশি সিনেমায় অভিনয় করেও তিনি বক্স অফিসে তেমন সফলতা পাননি। তবে ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'ফুল অউর পাত্থার' সিনেমাটি তাঁর টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে প্রমাণিত হয়, যেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মীনা কুমারী। এই সিনেমা বক্স অফিসে ভালো আয় করে এবং এরপর তাঁকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে তিনি 'সত্যকাম', 'শোলে', 'আঁখে', 'কর্তব্য'-এর মতো হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ান।
অপূর্ণ শেষ ইচ্ছা
বর্ষীয়ান এই অভিনেতা তাঁর শেষ সিনেমা 'ইক্কিস' দেখে যেতে পারেননি। গত বছরের ২৪ নভেম্বর পরলোকগমন করেন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় এই চিত্রতারকা। তাঁর অভিনয় জীবন, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং মানবকল্যাণমূলক কাজের জন্য তিনি সর্বদা স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।