টেক্সাস গভর্নরের নির্দেশ ও যুক্তি
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুসারে, টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এই স্থগিতাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর জারি করা এক সরকারি চিঠিতে বলা হয়েছে, এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচির কারণে এমন বহু চাকরি বিদেশিদের হাতে চলে যাচ্ছে, যা 'আমেরিকানদের, বিশেষ করে টেক্সানদের দ্বারা পূরণ করা উচিত ছিল।' রিপাবলিকান পার্টির এই গভর্নর জানান, রাজ্যের অর্থনীতিকে 'আমেরিকার সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি' হিসেবে ধরে রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থগিতাদেশের সময়সীমা ও প্রভাব
নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, এই ভিসা স্থগিতাদেশ ২০২৭ সালের ৩১ মে পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর ফলে রাজ্যের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি প্রভাবিত হবে। গভর্নর অ্যাবটের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে যে, আগামী ২৭ মার্চের মধ্যে সব রাজ্য সংস্থাকে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেই রিপোর্টে ভিসা নবায়নের আবেদন সংখ্যা, আবেদনকারীদের দেশ এবং বর্তমান ভিসার মেয়াদের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ করতে হবে।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ভারতীয়রা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ভারতীয়রা। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ৫.২ মিলিয়ন ভারতীয়ের মধ্যে প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজারই টেক্সাসে বসবাস করেন। এছাড়াও নিউ জার্সিতে প্রায় ৪৪০ হাজার, নিউইয়র্কে ৩৯০ হাজার এবং ইলিনয়ে প্রায় ২৭০ হাজার ভারতীয় বসবাস করেন। মার্কিন পরিসংখ্যন ব্যুরোর ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে মোট অভিবাসীদের মধ্যে প্রায় ৬৬ শতাংশই ভারতীয়। ফলে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঘোষিত ট্রাম্পের ভিসা সংক্রান্ত কড়াকড়ি ভারতীয় সম্প্রদায়ের ওপর সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কর্মসংস্থানের প্রকৃতি
হিউস্টন ক্রনিকলের উদ্ধৃত ফেডারেল তথ্যে দেখা যায়, টেক্সাসে অধিকাংশ এইচ-১বি ভিসাধারী বেসরকারি সংস্থায় কাজ করলেও, সরকারি ক্ষেত্রেও রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে এই ভিসাধারীদের একটি বড় অংশ কর্মরত। অ্যাবট উল্লেখ করেন, এই প্রোগ্রামটি বিশ্বের সেরা ও মেধাবীদের এনে প্রকৃত বিশেষায়িত ও অপূর্ণ কর্মসংস্থানের চাহিদা পূরণের বদলে বহু ক্ষেত্রে এমন চাকরি পূরণে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা টেক্সাসের নাগরিকরাই করতে পারতেন।