স্বাস্থ্যসেবায় ওয়ার্ডভিত্তিক বিপ্লব
ডা. ফজলুল হক তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি নির্বাচিত হলে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁর লক্ষ্য, সাধারণ মানুষ যেন কাছাকাছি চিকিৎসা পায় এবং বড় হাসপাতালের ওপর চাপ কমে। তিনি বলেন, 'মানুষ যেন কাছাকাছি চিকিৎসা পায়, সেটাই আমার লক্ষ্য। ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়ার চেষ্টা থাকবে, না পারলেও সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করব। এতে বড় হাসপাতালের চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে।'
জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত মহাপরিকল্পনা
নগরের দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা জলাবদ্ধতা নিয়ে এই প্রার্থী সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, খণ্ড খণ্ড প্রকল্প নয়, বরং ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, খাল উদ্ধার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ছাড়া সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, 'প্রতিবছর সামান্য বৃষ্টিতেই নগরের বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়।'
যানজট নিরসন: পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থার দাবি
যানজট নিরসনের বিদ্যমান ফ্লাইওভার বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ডা. ফজলুল হক বলেন, 'উন্নয়ন তখনই সফল, যখন তা মানুষের দৈনন্দিন জীবন সহজ করে।' তিনি যানজট নিরসনের জন্য পরিকল্পিত ট্রাফিক ব্যবস্থা, বিকল্প সড়ক, সুশৃঙ্খল পার্কিং ও আধুনিক গণপরিবহনের ওপর জোর দেন।
হকার ও বস্তি উন্নয়ন নিয়ে নতুন ভাবনা
ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে এবং হকারদের জীবিকা নিশ্চিত করতে তিনি প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট দিনে সাপ্তাহিক হকার মার্কেট চালুর প্রস্তাব দেন। এছাড়াও, বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ না করে পরিকল্পিতভাবে আধুনিক আবাসিক এলাকায় রূপান্তরের মাধ্যমে নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, কম কিস্তিতে আবাসনের সুযোগ দিলে দরিদ্র পরিবারও সুবিধা পাবে।
দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি ও জবাবদিহিতা
ডা. ফজলুল হক মনে করেন, দুর্নীতির কারণেই দেশের উন্নয়ন ব্যর্থ হয় এবং সাধারণ মানুষ সুফল পায় না। তিনি বলেন, 'জামায়াতে ইসলামের রাজনীতির মূল ভিত্তি হলো আল্লাহভীতি ও জবাবদিহিতা। ক্ষমতা একটি আমানত এই বিশ্বাস থেকেই আমরা দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতিতে বিশ্বাস করি।' তাঁর প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে জলাবদ্ধতা নিরসন, ওয়ার্ডভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা, আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা, পরিবেশ রক্ষা ও দুর্নীতিমুক্ত উন্নয়ন নিশ্চিত করা অন্যতম।