• রাজনীতি
  • ১৯ বছর পর পৈতৃক ভিটায় তারেক রহমান: ‘আজ আপনাদের কিছু দেওয়ার নেই, শুধু চাওয়ার আছে’

১৯ বছর পর পৈতৃক ভিটায় তারেক রহমান: ‘আজ আপনাদের কিছু দেওয়ার নেই, শুধু চাওয়ার আছে’

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
১৯ বছর পর পৈতৃক ভিটায় তারেক রহমান: ‘আজ আপনাদের কিছু দেওয়ার নেই, শুধু চাওয়ার আছে’

বগুড়ার আলতাফুন্নেছা মাঠে গভীর রাতে জনসমুদ্র; সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানকে পাশে নিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দেশবাসীর সমর্থন চাইলেন বিএনপি চেয়ারম্যান।

দীর্ঘ ১৯ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নিজের পৈতৃক জেলা বগুড়ায় ফিরলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) মধ্যরাতে বগুড়ার ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনি জনসভায় দাঁড়িয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, "এই মুহূর্তে আপনাদের দেওয়ার মতো কিছু নেই আমার; আছে শুধু মানুষের কাছে চাওয়ার এক ব্যাকুল আবেদন।" নওগাঁর সফল জনসভা শেষ করে গভীর রাতে বগুড়ায় পৌঁছালেও প্রিয় নেতাকে বরণ করে নিতে আলতাফুন্নেছা মাঠ ও আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

শেকড়ের টানে গভীর রাতেও লাখো মানুষের ঢল

বগুড়া কেবল তারেক রহমানের পৈতৃক ভিটা নয়, এটি বিএনপির রাজনীতির অন্যতম দুর্ভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত। রাত যত গভীর হয়েছে, মাঠ ছাড়িয়ে শহরের অলিগলিতে মানুষের ভিড় তত বেড়েছে। জনসভায় তারেক রহমান তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, এবারের নির্বাচনি লড়াই কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং দেশের হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। তিনি বলেন, "ঘরের মানুষের কাছে নতুন করে কিছু বলার প্রয়োজন নেই। তবে মনে রাখবেন, এবারের নির্বাচন (Election) দেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। ধানের শীষকে বিজয়ী করে আপনাদেরই এই বিজয় সুনিশ্চিত করতে হবে।"

সাফল্যের নেপথ্যে জুবাইদা রহমান: এক ব্যক্তিগত স্বীকৃতি

এবারের উত্তরবঙ্গ সফরে তারেক রহমানের প্রতিটি পদক্ষেপে তার পাশে দেখা গেছে সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানকে। প্রচার গাড়ি থেকে শুরু করে জনসভার মঞ্চ—সবখানেই তাদের এই যুগল উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি করেছে। বক্তব্যের একপর্যায়ে ব্যক্তিগত জীবনের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, "আমার রাজনৈতিক জীবনে এবং গভীর রাত পর্যন্ত দেশের জন্য কাজ করার পেছনে জুবাইদা রহমানের নিঃস্বার্থ সমর্থন এক বিশাল শক্তি। স্ত্রী পাশে থাকলে এবং বগুড়াবাসী সাহস দিলে আগামী দিনে দেশকে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।"

নেতাকর্মীদের প্রতি সতর্কবার্তা: ন্যায্য অধিকার ও নৈতিকতা

বিগত ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের প্রেক্ষাপটের সঙ্গে বর্তমান সময়ের রাজনীতির বড় পার্থক্য রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, "নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রামে লিপ্ত থাকতে গিয়ে যেন সাধারণ মানুষের কোনো অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়। আমাদের আচরণে সাধারণ মানুষ যেন আমাদের প্রতি আস্থা পায়। এবার শুধু বগুড়ার কথা ভাবলে চলবে না, বগুড়াবাসীকে পুরো দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।"

আন্তর্জাতিক মহলের নজরদারি ও রাজনৈতিক কৌশল

জনসভাটি কেবল দেশীয় রাজনীতিতেই নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। জনসভা শুরুর আগে দুপুরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (European Union) একটি প্রতিনিধি দল জনসভাস্থল পরিদর্শন করেন। মূলত নির্বাচন পূর্ববর্তী পরিবেশ এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পর্যবেক্ষণ করতেই এই হাই-প্রোফাইল (High-profile) দলের এই সফর। বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই উত্তরবঙ্গ সফর এবং জনগণের অভূতপূর্ব সাড়া বিএনপির রাজনৈতিক কৌশলে (Political Strategy) এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

১৯ বছর পর শেকড়ের টানে ফিরে আসা তারেক রহমান কেবল বগুড়াবাসীর দোয়া ও সমর্থন নিয়েই মাঠ ছাড়েননি, বরং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বগুড়াকে আবারও রাজনৈতিক লাইমলাইটে (Limelight) নিয়ে এসেছেন।

Tags: tarique rahman political speech bnp leader election news democracy restoration zubaida rahman north bengal eu observers bogra rally dhayer shish