• আন্তর্জাতিক
  • জনরোষ ও রাজনৈতিক চাপে নমনীয় ট্রাম্প প্রশাসন: মিনেসোটায় কি থামছে বিতর্কিত ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’?

জনরোষ ও রাজনৈতিক চাপে নমনীয় ট্রাম্প প্রশাসন: মিনেসোটায় কি থামছে বিতর্কিত ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’?

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
জনরোষ ও রাজনৈতিক চাপে নমনীয় ট্রাম্প প্রশাসন: মিনেসোটায় কি থামছে বিতর্কিত ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’?

গণ-নির্বাসন কর্মসূচিতে ‘ড্র-ডাউন প্ল্যান’-এর ঘোষণা হোয়াইট হাউসের সীমান্ত প্রধান টম হোম্যানের; জননিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি।

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দ্বিতীয় মেয়াদে ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ‘গণ-নির্বাসন’ বা Mass Deportation কর্মসূচি নিয়ে যখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে অভিবাসীবিরোধী কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে হোয়াইট হাউস। প্রবল জনঅসন্তোষ, আইনি জটিলতা এবং নিজ দলের ভেতর থেকেই আসা রাজনৈতিক চাপের মুখে মিনেসোটায় চলমান ধরপাকড় কমানোর পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

হোয়াইট হাউসের সীমান্ত বিষয়ক প্রধান (Border Czar) টম হোম্যান স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মিনেসোটা নিয়ে প্রশাসনের নতুন অবস্থানের কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে সেখানে মোতায়েন করা ফেডারেল এজেন্টদের (Federal Agents) সংখ্যা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনা হবে।

‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ ও মিনেসোটার উত্তপ্ত পরিস্থিতি

ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পলসহ প্রধান শহরগুলোতে ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ (Operation Metro Surge) নামে এক বিশাল অভিযান শুরু করে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই (ICE)। গত এক বছরে এই অভিযানের আওতায় প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে বলে আইসিই সূত্রে জানা গেছে।

তবে এই কঠোর অভিযানের নামে ব্যাপক ধরপাকড় এবং দুর্ভাগ্যবশত গুলিবর্ষণে দুইজন মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়, যা শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

হোম্যানের ‘ড্র-ডাউন প্ল্যান’ ও পেশাদারিত্বের প্রশ্ন

সংবাদ সম্মেলনে টম হোম্যান জানান, তিনি মিনেসোটায় মোতায়েন করা ফেডারেল এজেন্টদের জন্য একটি ‘ড্র-ডাউন প্ল্যান’ (Draw-down Plan) তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, “এখন থেকে ঢালাওভাবে সড়কে তল্লাশি বা যত্রতত্র অভিযানের পরিবর্তে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও পরিকল্পিত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান (Targeted Operations) পরিচালিত হবে।”

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আইসিই এজেন্টদের কর্মকাণ্ডে ‘পেশাদারিত্বের ঘাটতি’ ছিল বলে প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন হোম্যান। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জননিরাপত্তা আমাদের কাছে নির্বাসনের চেয়ে বড় অগ্রাধিকার। যারা দায়িত্ব পালনে অপেশাদার আচরণ বা ভুল করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

রাজনৈতিক সমীকরণ ও গভর্নর নির্বাচন

মিনেসোটার এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সেখানকার রাজনৈতিক অঙ্গন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। হোম্যান ইতোমধ্যে অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ, অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসন এবং মেয়র জ্যাকব ফ্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন।

এদিকে, এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যেই মিনেসোটার পরবর্তী গভর্নর পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যামি ক্লোবুশার। তিনি সরাসরি ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করে বলেন, “রাজ্যের রাস্তায় হাজার হাজার আইসিই এজেন্ট পাঠিয়ে একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যা সামাজিক বিভাজনকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।”

অন্যান্য অঙ্গরাজ্যে কড়াকড়ি অব্যাহত

মিনেসোটায় অভিযানের গতি কমানোর ইঙ্গিত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অংশে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি আগের মতোই বলবৎ রয়েছে। আইসিই জানিয়েছে, মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে মাত্র চারদিনের এক বিশেষ অভিযানে ২০০-র বেশি অভিবাসীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দাবি, গ্রেফতারকৃতরা গুরুতর বিভিন্ন অপরাধে (Serious Crimes) জড়িত ছিল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মিনেসোটায় ট্রাম্প প্রশাসনের এই পিছু হটা মূলত আগামী নির্বাচন এবং ক্রমবর্ধমান জনরোষ সামলানোর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ (Strategic Move)। তবে এই ‘নমনীয়তা’ দীর্ঘস্থায়ী হবে নাকি এটি কেবল সাময়িক কৌশল, তা নিয়ে এখনও জল্পনা চলছে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে।

Tags: trump administration immigration policy federal agents mass deportation immigrant raids minnesota politics tom homan ice operations public unrest operation surge