রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা মহাখালীতে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের তাৎক্ষণিক তৎপরতা
ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই দ্রুত ঘটনাস্থলে প্রথম রেসপন্স ইউনিট (Response Unit) পাঠানো হয়। তবে আগুনের তীব্রতা এবং আগুনের উৎসস্থল আবাসিক ভবন হওয়ায় পার্শ্ববর্তী স্টেশনগুলো থেকেও অতিরিক্ত ইউনিট তলব করা হয়েছে। সরু গলি এবং জনবহুল এলাকা হওয়ায় ফায়ার ফাইটারদের পজিশন নিতে বেগ পেতে হচ্ছে, তবুও তারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।
আতঙ্কে বাসিন্দাদের ছোটাছুটি ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনের একটি নির্দিষ্ট তলা থেকে হঠাৎ কালো ধোঁয়া ও আগুনের শিখা বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ভবনের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে ভবনের ভেতরে থাকা বাসিন্দারা প্রাণভয়ে চিৎকার শুরু করেন এবং তাড়াহুড়ো করে নিচে নেমে আসেন। অনেকেই তাদের মূল্যবান আসবাবপত্র ও নথিপত্র ফেলে কেবল জীবন বাঁচাতে পথে নেমে এসেছেন। আতঙ্কিত হয়ে আশপাশের ভবনের বাসিন্দারাও নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়েছেন।
সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশন ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা
এখন পর্যন্ত অগ্নিকাণ্ডে কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ধোঁয়ার কারণে কেউ ভবনের ভেতরে আটকা পড়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ (Search and Rescue) অভিযান চালাচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে আগুনের সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। শর্ট সার্কিট (Short Circuit) নাকি গ্যাস লাইন বিস্ফোরণ থেকে এই বিপত্তি, তা নিরূপণে তদন্ত করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করতে এবং আগুনের ঝুঁকি পুরোপুরি নির্মূল করতে আরও সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মহাখালীর মতো ঘিঞ্জি এলাকায় আবাসিক ভবনে এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড রাজধানীর ফায়ার সেফটি (Fire Safety) ব্যবস্থার গুরুত্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।