বলিউডের গ্ল্যামার জগতের আড়ালে থাকা অন্ধকার অধ্যায় যেন আরও একবার প্রকাশ্যে এল। রাজস্থানের উদয়পুর আদালতের নির্দেশে বড়সড় ধাক্কা খেলেন প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা বিক্রম ভাট (Vikram Bhatt) এবং তাঁর স্ত্রী শ্বেতাম্বরী ভাট। ৩০ কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতির (Financial Fraud) অভিযোগে অভিযুক্ত এই তারকা দম্পতির জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। ফলে এখনই জেল থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না তাঁরা; আপাতত উদয়পুরের জেলেই থাকতে হচ্ছে তাঁদের।
আদালতের কড়া নির্দেশ ও বিচারবিভাগীয় হেফাজত
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজস্থানের একটি বিশেষ আদালতের বিচারপতি বিনোদ কুমার ভারওয়ানি এই চাঞ্চল্যকর আদেশ দেন। গত ৭ ডিসেম্বর আর্থিক জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে বিক্রম ভাট ও শ্বেতাম্বরীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। দীর্ঘ শুনানির পর আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়ে জেল হেফাজত বা Judicial Custody-র মেয়াদ বহাল রাখার নির্দেশ দেয়। আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে আইনি লড়াইয়ে বিক্রম ভাটের অবস্থান আরও জটিল হয়ে পড়ল বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
বায়োপিকের প্রলোভন ও ৩০ কোটির জালিয়াতি
এই ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে। অভিযোগকারী হলেন ইন্দিরা আইভিএফ (Indira IVF) হাসপাতালের মালিক ও প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. অজয় মুরদিয়া। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ডা. অজয় তাঁর স্ত্রীর জীবনকাহিনি নিয়ে একটি বায়োপিক (Biopic) নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। এই উদ্দেশ্যেই তিনি দিনেশ কাটারিয়ার মাধ্যমে মুম্বাইয়ের বৃন্দাবন স্টুডিওতে বিক্রম ভাটের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
অভিযোগ উঠেছে, আলোচনার এক পর্যায়ে বিক্রম ভাট এবং তাঁর স্ত্রী শ্বেতাম্বরী ওই চিকিৎসককে প্রলুব্ধ করেন। তাঁরা দাবি করেন, এই বায়োপিক থেকে অন্তত ২০০ কোটি টাকা আয় (Revenue Generation) হবে। এই বিপুল লভ্যাংশের স্বপ্ন দেখিয়ে তাঁরা ডা. মুরদিয়ার কাছ থেকে বিভিন্ন দফায় টাকা নিতে শুরু করেন। কিন্তু পরবর্তীকালে বায়োপিক নির্মাণের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এবং আর্থিক লেনদেনে অস্বচ্ছতা দেখা দেওয়ায় ওই চিকিৎসক ৩০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশের যৌথ অভিযান ও তদন্তের অগ্রগতি
মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে রাজস্থান পুলিশ এবং মুম্বাই পুলিশ একটি বিশেষ যৌথ অভিযান (Joint Operation) পরিচালনা করে। গত ডিসেম্বরে এই অভিযানে বিক্রম ভাট ও তাঁর স্ত্রী ছাড়াও আরও ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এটি একটি পরিকল্পিত জালিয়াতি হতে পারে, যেখানে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ বর্তমানে এই ঘটনার পেছনে কোনো বড় চক্র বা সিন্ডিকেট কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।
বলিউডে উদ্বেগের ছায়া
বিক্রম ভাটের মতো একজন প্রতিষ্ঠিত নির্মাতার নাম এমন গুরুতর জালিয়াতি মামলায় জড়িয়ে পড়ায় বলিউড মহলে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে। ইন্ডাস্ট্রির বড় প্রজেক্টগুলোতে বিনিয়োগের নিরাপত্তা এবং পেশাদারিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানাচ্ছে, অভিযুক্তদের ব্যাংক লেনদেন (Bank Transactions) এবং সংশ্লিষ্ট চুক্তিনামাগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আপাতত জামিন না পাওয়ায় আগামী কয়েকদিন শ্রীঘরেই কাটাতে হবে ভাট দম্পতিকে। উচ্চতর আদালতে তাঁরা আপিল করবেন কি না, সেদিকেই এখন নজর সকলের।