বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে ডিজিটাল রূপান্তরের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়েছে। কেবল প্রবাসীরাই নন, দেশে অবস্থানরত একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ (Postal Vote BD) মোবাইল অ্যাপের ওপর আস্থা রাখছে নির্বাচন কমিশন (EC)। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রায় ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫০৭ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটে তাদের রায় প্রদানের সুযোগ পাচ্ছেন।
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ভোটাধিকার
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপটি কেবল বিদেশের মাটিতে থাকা প্রবাসীদের (NRB) জন্য নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরে থাকা নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ভোটারদের জন্যও একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচন পরিচালনার কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং যারা আইনি হেফাজতে (Legal Custody) অর্থাৎ কারাগারে রয়েছেন, তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টি সহজতর করতেই এই উদ্ভাবনী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কারা পাচ্ছেন এই বিশেষ সুযোগ?
সাধারণত নির্বাচনের দিন যারা ভোটকেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিত হতে পারেন না, তাঁদের জন্য এই পোস্টাল ব্যালটের (Postal Ballot) ব্যবস্থা থাকে। এর মধ্যে রয়েছেন: ১. নির্বাচনের দিন দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনী। ২. পেশাগত কারণে যারা নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন। ৩. বিভিন্ন কারণে কারাগারে বা আইনি হেফাজতে থাকা ব্যক্তিরা।
পরিসংখ্যানে পোস্টাল ভোটের চিত্র
নির্বাচন কমিশনের সরবরাহ করা বার্তায় দেখা যায়, আধুনিক এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে দেশ ও বিদেশ মিলিয়ে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫০৭ জন ভোটার মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন (Registration) সম্পন্ন করেছেন। ইসি ইতিমধ্যে তাঁদের ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট পেপার পাঠিয়ে দিয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী:
ব্যালট গ্রহণ করেছেন: ৫৮ হাজার ৭৯৭ জন ভোটার।
ভোটদান সম্পন্ন করেছেন: ৪৩ হাজার ৩১৯ জন।
ডাক বিভাগে জমা পড়েছে: এখন পর্যন্ত ২৯ হাজার ৩৩৪টি ভোট পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা পড়েছে।
ভোটের স্বচ্ছতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতিতে আগে অনেক সময়ক্ষেপণ ও জটিলতা থাকলেও, এই স্পেশালাইজড মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারের ফলে প্রক্রিয়াটি অনেক বেশি স্বচ্ছ ও গতিশীল হয়েছে। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ থেকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের লক্ষ্যে এটি নির্বাচন কমিশনের একটি বড় মাইলফলক। অ্যাপের মাধ্যমে ডেটা যাচাই এবং ভোটার ভেরিফিকেশন (Verification) প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় জালিয়াতির সুযোগও অনেকটা কমে এসেছে।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, পোস্টাল ভোটের এই বিশাল পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে দেশের ভোটাররা প্রযুক্তিবান্ধব ব্যবস্থার দিকে দ্রুত ঝুঁকছেন। আগামী দিনগুলোতে এই ব্যবস্থার পরিধি আরও বাড়লে ভোটাধিকার প্রয়োগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।