• দেশজুড়ে
  • চকরিয়ায় নির্মাণাধীন ভবনে ১১ হাজার ভোল্টের ‘মরণফাঁদ’: বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

চকরিয়ায় নির্মাণাধীন ভবনে ১১ হাজার ভোল্টের ‘মরণফাঁদ’: বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
চকরিয়ায় নির্মাণাধীন ভবনে ১১ হাজার ভোল্টের ‘মরণফাঁদ’: বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

খুটাখালী বাজারে তিন তলা ভবনে কাজ করার সময় হাই-ভোল্টেজ লাইনের সংস্পর্শে প্রাণ হারালেন সাগর ও উসমান; এলাকায় শোকের ছায়া।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় একটি বাণিজ্যিক ভবনের নির্মাণকাজ চলাকালে ১১ হাজার ভোল্টের বৈদ্যুতিক লাইনের সংস্পর্শে এসে দুই শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার খুটাখালী বাজারে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং নির্মাণাধীন ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

নিহতদের পরিচয়

নিহত দুই শ্রমিকই চকরিয়া উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দা। তাঁরা হলেন— খুটাখালী ইউনিয়নের গর্জনতলী গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে লাল মুহিত উদ্দিন সাগর (৩৩) এবং একই গ্রামের মোহাম্মদ জোহারের ছেলে মোহাম্মদ উসমান (১৮)। দুজনই পেশায় নির্মাণ শ্রমিক ছিলেন এবং ওই ভবনে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করছিলেন।

দুর্ঘটনার বিবরণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও অন্যান্য শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে খুটাখালী বাজারে একটি নির্মাণাধীন তিন তলা বাণিজ্যিক ভবনে তিনজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। ওই ভবনের ঠিক পাশ দিয়েই অতিবাহিত হয়েছে ১১ হাজার ভোল্টের একটি হাই-ভোল্টেজ (High-voltage) বৈদ্যুতিক লাইন।

বেলা ১২টার দিকে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত শ্রমিক লাল মুহিত উদ্দিন সাগর প্রথমে ওই বিদ্যুৎ লাইনের সংস্পর্শে আসেন। বিদ্যুতের তীব্র ঝটকায় তিনি সঙ্গে সঙ্গেই জ্ঞান হারান। এসময় তাঁর পাশে থাকা অপর শ্রমিক মোহাম্মদ উসমান সেই ঝাঁকুনিতে ভবন থেকে ছিটকে নিচে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ

খুটাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় এমন দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, "নির্মাণ শ্রমিকদের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। আমরা পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখছি। সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্টদের বয়ান যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা (Legal Action) গ্রহণ করা হবে।"

নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা

শহরাঞ্চল ও গ্রামীণ জনপদে অপরিকল্পিতভাবে বৈদ্যুতিক লাইনের পাশে ভবন নির্মাণের ফলে এমন দুর্ঘটনা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্মাণাধীন সাইটে (Construction Site) যথাযথ নিরাপত্তা সরঞ্জাম (Safety Gear) ব্যবহার না করা এবং হাই-ভোল্টেজ লাইনের বিষয়ে পর্যাপ্ত সতর্কতা অবলম্বন না করাই এই মর্মান্তিক প্রাণহানির প্রধান কারণ। এই ঘটনায় ভবন মালিকের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Tags: police investigation tragic death safety negligence labor rights electrocution death chakaria news coxsbazar accident construction worker khutakhali bazar high voltage