• বিনোদন
  • ৪৮ ঘণ্টার হাজতবাস: নুসরাত ফারিয়ার জীবনের কঠিনতম অধ্যায়

৪৮ ঘণ্টার হাজতবাস: নুসরাত ফারিয়ার জীবনের কঠিনতম অধ্যায়

নুসরাত ফারিয়া জানান, ৪৮ ঘণ্টার হাজতবাসের অভিজ্ঞতা তাঁকে জীবনের বড় শিক্ষা দিয়েছে এবং কাছের মানুষদের আসল চেহারা চিনিয়ে দিয়েছে।

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
৪৮ ঘণ্টার হাজতবাস: নুসরাত ফারিয়ার জীবনের কঠিনতম অধ্যায়

সম্প্রতি এক পডকাস্টে বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া তাঁর জীবনের এক কঠিন সময়ের কথা তুলে ধরেছেন। গত বছর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় বিমানবন্দর থেকে নাটকীয় গ্রেপ্তারের পর ৪৮ ঘণ্টার হাজতবাস তাঁকে জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা দিয়েছে। এই দুই দিনেই তিনি তাঁর চারপাশের মানুষের আসল চেহারা চিনতে পেরেছেন এবং সম্পর্কগুলোর পরিবর্তন দেখেছেন।

গ্রেপ্তার ও হাজতবাসের নাটকীয় মুহূর্ত

২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় 'হত্যাচেষ্টা'র অভিযোগে করা একটি মামলার আসামি ছিলেন নুসরাত ফারিয়া। গত বছরের ১৮ মে থাইল্যান্ডে গানের শুটিংয়ের জন্য যাওয়ার সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁকে আটক করে ভাটারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

এই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে ফারিয়া বলেন, “ইমিগ্রেশনে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ভাবিনি এমন কিছু হতে পারে। পুলিশ যখন আমাকে আটকে দিল, আমি ভেবেছিলাম হয়তো কোনো ভুল হচ্ছে। কিন্তু তারা যখন আমাকে ডিটেনশন রুমে নিয়ে গেল, তখন বুঝতে পারলাম আমি গ্রেপ্তার হতে যাচ্ছি। মুহূর্তের মধ্যে আমার পৃথিবীটা যেন থমকে গিয়েছিল।” এরপর আদালতের মাধ্যমে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

বদলে যাওয়া সম্পর্কের সমীকরণ

জেল থেকে বের হওয়ার পরের অভিজ্ঞতা জানিয়ে নুসরাত ফারিয়া বলেন, জেলে কাটানো মাত্র ৪৮ ঘণ্টাই তাঁকে জীবনের বড় শিক্ষা দিয়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা ছিল তাঁর চারপাশের মানুষের আচরণে। তিনি দেখেন, সবচেয়ে কাছের বন্ধুরাও সামাজিক মাধ্যম থেকে তাঁর সঙ্গে থাকা ছবি সরিয়ে ফেলেন, যেন তাঁরা স্পষ্ট করে দিতে চান যে এই মুহূর্তে তাঁর সঙ্গে যুক্ত থাকতে চান না। অনেকে যোগাযোগও বন্ধ করে দেন।

আবেগঘন কণ্ঠে ফারিয়া বলেন, “যাদের জন্য বছরের পর বছর নিঃস্বার্থভাবে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি, সেই মানুষগুলোর অস্তিত্বও নতুন করে চিনেছি। আজ তারা ফিরতে চাইলেও তাদের গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, আত্মীয়তা— সবখানেই বড় পরিবর্তন দেখেছি।” তাঁর ভাষ্য, “এই মাত্র ৪৮ ঘণ্টাই আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে কে আমার আপন, আর কে নয়।"

কারাগারে সহমর্মিতা ও অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা

তবে এই কঠিন সময়ে তিনি কিছু মানুষের অপ্রত্যাশিত ভালোবাসা পেয়েছেন। তিনি জানান, জেলখানায় জেলার থেকে শুরু করে সবাই তাঁকে সহানুভূতি ও ভালোবাসা দিয়েছেন। ফারিয়া বলেন, “জেলের ভেতরে জেলার থেকে শুরু করে সবাই যে সহানুভূতি আর ভালোবাসা দিয়ে আমাকে ট্রিট করেছে, আমি বলব— আমি ভেরি ব্লেসড। এটা পুরোপুরি আলাদা এক অভিজ্ঞতা।” তবে বিষয়টি খুব বেশি বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করতে চান না তিনি।

জেলজীবনে নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে ফারিয়া বলেন, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা তিনি কিছু খেতে পারেননি। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে সেখানে থাকা মানুষজন তাঁকে নিজ হাতে খাইয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি শুধু মনে করতে পারি— আমার চোখ দিয়ে টিয়ারড্রপ পড়ছে, আর ওরা আমাকে খাইয়ে দিচ্ছে। এমন মানুষ, যাদের আমি চিনি না, হয়তো জীবনে আর কখনো দেখবও না।”

সেই সকল অপরিচিত মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমি মন থেকে দোয়া করি, আল্লাহ যেন তাদের সব কষ্ট দূর করে দেন। কারণ ওই ক্রুশাল মোমেন্টে তারা আমার সঙ্গে কিছু না হয়ে শুধু ভালো আর দয়ালুই ছিল।"

Tags: dhallywood arrest celebrity nusrat faria podcast jail experience