পূর্ণ বিশ্ব, যিনি ‘স্কুইড গেম : দ্য চ্যালেঞ্জ’-এর প্লেয়ার নং ০৩১ হিসেবে পরিচিত, সম্প্রতি কালের কণ্ঠের সঙ্গে একটি একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন।
স্কুইড গেমে যুক্ত হওয়ার গল্প
পূর্ণ বিশ্ব জানান, তিনি নেটফ্লিক্সের ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে কাস্টিংয়ের খবর পেয়ে আবেদন করেন। কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই শুধু নিজের গল্প আর প্রার্থনার ওপর বিশ্বাস রেখে আবেদন জমা দেন। একাধিক ধাপের সাক্ষাৎকার ও চ্যালেঞ্জের পর যখন তিনি নির্বাচিত হন, তখন তিনি ভীষণ আনন্দিত হন এবং ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তার মনে হয়েছিল, এমন এক জগতে প্রবেশের দরজা খুলে গেল, যা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি।
‘রেড লাইট, গ্রিন লাইট’ ছিল কঠিনতম গেম
স্কুইড গেমের পর্দার আড়ালের গল্প সম্পর্কে পূর্ণ বিশ্ব বলেন, প্রতিযোগীরা দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার কারণে তাদের মধ্যে এক ধরনের বন্ধন তৈরি হয়েছিল। তিনি নিশ্চিত করেন যে পর্দায় দেখা অধিকাংশ প্রতিক্রিয়া একেবারেই সত্যিকারের, অভিনয় করা নয়। এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা ছিল না, বরং একটি যৌথ যাত্রা। সব গেমের মধ্যে ‘রেড লাইট, গ্রিন লাইট’ ছিল সবচেয়ে কঠিন। ঠান্ডার মধ্যে ৫-৭ ঘণ্টা ধরে এই গেম চলেছিল এবং অনেককেই চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে নিতে হয়েছিল।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযুক্তি ও সাহিত্য
অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি পেলেও পূর্ণ বিশ্ব এর বাইরে একজন লেখক ও গীতিকার। তার গান ও লেখালেখির মূল উপাদান হলো বাস্তব জীবন—আশা, দৃঢ়তা এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা। পেশাগতভাবে তিনি প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতে কাজ করেন। পাশাপাশি কমিউনিটি ও সৃজনশীল কিছু উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত আছেন, যার লক্ষ্য মানুষকে অনুপ্রাণিত ও এগিয়ে যেতে সহায়তা করা।
শরণার্থী শিবির থেকে আজকের অবস্থানে
পূর্ণ বিশ্ব নেপালের একটি শরণার্থী শিবিরে জন্মগ্রহণ করেন এবং জীবনের ১৬টি বছর সেখানেই কাটিয়েছেন, যেখানে বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ ছিল খুবই সীমিত। সেই পটভূমি থেকে আজকের অবস্থানে আসাটা ছিল অধ্যবসায়, বিশ্বাস এবং যারা তার ওপর আস্থা রেখেছেন, তাদের সহায়তায় সম্ভব এক দীর্ঘ যাত্রা। তিনি শিক্ষায় মনোযোগ দিয়েছেন, দক্ষতা গড়ে তুলতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে বেড়ে ওঠার প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। তিনি জানান, সবকিছুর ঊর্ধ্বে—এটি ঈশ্বরের অনুগ্রহ।
বাংলা চলচ্চিত্রে কাজ করার তীব্র ইচ্ছা
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে পূর্ণ বিশ্ব জানান, ‘Squid Game: The Challenge’ তাকে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তিনি এখন সক্রিয়ভাবে চলচ্চিত্র, সংগীত ও গল্প বলার নতুন সুযোগ খুঁজছেন। তিনি বলেন, “যদি এমন কোনো প্রোজেক্টের প্রস্তাব পাই, যার মধ্যে অর্থ ও প্রভাব আছে, আমি অবশ্যই তার অংশ হতে চাই। সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে কোনো একটি বাংলা ছবিতে কাজ করতেও আমি খুব আগ্রহী।” তিনি মনে করেন, দূরত্ব কোনো বিষয় নয়, ইচ্ছে থাকলে সবই সম্ভব।
বাংলাদেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি বাংলাদেশকে জেনেছেন পড়াশোনা করে। এটি একটি সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, দৃঢ়তা ও সৃজনশীলতায় ভরপুর দেশ। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাস আরও জানতে এবং এর সংস্কৃতি নিজ চোখে দেখার জন্য ভ্রমণ করতে চান। তিনি আশা করেন, কোনো একদিন বাংলাদেশে যাওয়ার সুযোগ হবে। বর্তমানে তিনি স্ত্রী-সন্তান ও আত্মীয়স্বজনসহ কানসাস, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন।