• রাজনীতি
  • জাতীয় সরকার নয়, এককভাবেই ক্ষমতায় যাবে বিএনপি: তারেক রহমান

জাতীয় সরকার নয়, এককভাবেই ক্ষমতায় যাবে বিএনপি: তারেক রহমান

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামায়াতের জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
জাতীয় সরকার নয়, এককভাবেই ক্ষমতায় যাবে বিএনপি: তারেক রহমান

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদের শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী সপ্তাহের নির্বাচনের পর জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া এই প্রস্তাব নাকচ করে তিনি বলেছেন, তার দল এককভাবেই সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঘোষণা দেন।

জাতীয় সরকার গঠনে অনীহা

লন্ডনে প্রায় দুই দশক রাজনৈতিক নির্বাসন শেষে গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরা ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান দলের কার্যালয়ে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার অবস্থান স্পষ্ট করেন। তারেক রহমান তার মা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি বাবার ছবির নিচে বসে বলেন, "আমি কীভাবে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দলে কে থাকবে?" তিনি আরও বলেন, "আমি জানি না তারা কতটি আসন পাবে। কিন্তু তারা যদি বিরোধী দলে থাকে, আমি আশা করি তারা ভালো বিরোধী দল হিসেবে কাজ করবে।"

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের আশা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুই দল একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছিল। দেশকে স্থিতিশীল করতে জাতীয় সরকার গঠনের জন্য আবারও অংশীদারত্বে আগ্রহের কথা জানিয়েছে জামায়াত। তবে বিএনপির অন্যান্য সিনিয়র নেতারা জানিয়েছেন, সংসদে ৩০০ আসনের মধ্যে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পাবে বলে তারা আত্মবিশ্বাসী। বিএনপি সরাসরি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। আসন সংখ্যা সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, "আমরা আত্মবিশ্বাসী যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন আমরা পাব।"

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ও পররাষ্ট্রনীতি

গত বছর ঢাকার একটি আদালত দমন-পীড়নে ভূমিকার দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিলে এবং এরপরও ভারত তাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে মারাত্মকভাবে অবনতি ঘটে। এর ফলে চীন বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর সুযোগ পায়। জয়ী হলে ভারত থেকে সরে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না; এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, "প্রায় ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে সক্ষম এমন অংশীদার প্রয়োজন বাংলাদেশের।"

তিনি বলেন, "বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে দেশ আমাদের মানুষের জন্য উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই আমাদের বন্ধুত্ব থাকবে; কোনো নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে নয়।"

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রোহিঙ্গা নীতি

যদি তারা সরকারে আসেন, তাহলে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ব্যবসা আনা এবং মানুষের জীবনমান উন্নত করার ওপর জোর দেওয়া হবে বলে তারেক রহমান জানান।

এদিকে বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। তারেক রহমান বলেন, তিনিও চান রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরে যাক, তবে তা কেবল নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত হলে। "আমরা চেষ্টা করব যেন তারা নিজেদের ভূমিতে ফিরে যেতে পারে। সেখানে যাওয়ার মতো নিরাপদ পরিস্থিতি থাকতে হবে। যত দিন তা নিরাপদ না হবে, তত দিন তারা এখানে থাকতে পারবে।"

Tags: bangladesh election tarique rahman bnp jamaat-e-islami kalbela rohingya national government