• আন্তর্জাতিক
  • জাপানে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ: সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে বড় জয়ের পথে এলডিপি, ফিরছে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা!

জাপানে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ: সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে বড় জয়ের পথে এলডিপি, ফিরছে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা!

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
জাপানে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ: সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে বড় জয়ের পথে এলডিপি, ফিরছে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা!

তুষারঝড় ও মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ উপেক্ষা করে রেকর্ড জনসমর্থন; ৩৬ বছর পর মধ্য-শীতের ভোটে ‘তাকাইচি ম্যাজিক’-এ প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বুথফেরত জরিপ।

জাপানের রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির ডাকা আগাম জাতীয় নির্বাচনের (Snap Election) ভোটগ্রহণ আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) শেষ হয়েছে। প্রাথমিক বুথফেরত জরিপ (Exit Poll) অনুযায়ী, তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারাল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (LDP) এক বিশাল জয়ের পথে রয়েছে। এই জয় নিশ্চিত হলে কেবল তাকাইচির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নয়, বরং জাপানের রাজনীতিতে এলডিপি-র দীর্ঘস্থায়ী আধিপত্য আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তুষারপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়ায় ভোটযুদ্ধ প্রায় ৩৬ বছর পর জাপানে এবারই প্রথম মধ্য-শীতকালীন কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। ভোটের দিন টোকিওসহ জাপানের বড় শহরগুলোতে বিরল তুষারপাত ও বৈরী আবহাওয়া দেখা দেয়। আবহাওয়া এতটাই খারাপ ছিল যে, অন্তত ৫৪টি ফ্লাইট বাতিল এবং ৫৮টি ফেরি রুট বন্ধ করতে বাধ্য হয় দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়। তবে এই প্রচণ্ড হাড়কাঁপানো শীত ও তুষারপাত উপেক্ষা করে জাপানের সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে ভিড় জমান। তাদের চোখে ছিল অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করার স্বপ্ন।

তাকাইচি ম্যাজিক: দুর্নীতি ছাপিয়ে জনপ্রিয়তার শীর্ষে দলীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাস পরই জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট (Mandate) পেতে এই নির্বাচনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন সানায়ে তাকাইচি। এলডিপি-র পূর্ববর্তী দুই প্রধানমন্ত্রীর আমলে ব্যাপক দুর্নীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির (Cost of Living) ফলে দলটি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল। কিন্তু তাকাইচি ক্ষমতায় আসার পর থেকে তার ব্যক্তিগত ইমেজ এবং দৃঢ় নেতৃত্বে সরকারের অনুমোদনের হার (Approval Rating) ৭০ শতাংশের ওপরে উঠে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলের দুর্বলতা এবং তাকাইচির ‘পপুলিস্ট’ ভাবমূর্তি তাকে এই সম্ভাব্য সাফল্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে।

জরিপ কী বলছে? সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এলডিপি জাপানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে (NHK)-র সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, সংসদের মোট ৩২৮টি আসনের মধ্যে তাকাইচির এলডিপি একাই ২৭৪টি আসন পেতে পারে। যদি এই পূর্বাভাস সত্য হয়, তবে দলটি কুমেইতো দলের সাথে পুরনো জোট ছাড়াই এককভাবে সরকার গঠনের মতো ‘অ্যাবসলিউট মেজরিটি’ অর্জন করবে। এই জয় তাকাইচিকে জাপানের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও ভোটারদের উদ্বেগ নির্বাচন জয়ের পথে থাকলেও সাধারণ জাপানিদের মনে গভীর উদ্বেগ কাজ করছে। মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) এবং বাড়িভাড়ার ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস তুলছে। রিৎসুকো নিনোমিয়া নামে টোকিওর এক ভোটার বিবিসি-কে বলেন, "মানুষ চায় তাদের জীবন আরও আরামদায়ক হোক। আমরা মুদ্রাস্ফীতিতে অভ্যস্ত নই। আমাদের এখন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার (Long-term Planning) প্রয়োজন।" একই সুরে কথা বলেন রুমি হায়ামা, যার কাছে ভালো চাকরি থাকা সত্ত্বেও টোকিওতে একটি বড় বাড়ি ভাড়া নেওয়া এখন সাধ্যের বাইরে।

আগামীর চ্যালেঞ্জ: ঋণ ও অভিবাসন নীতি তাকাইচির জাতীয়তাবাদী বক্তব্য এবং ব্যাপক ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি অনেক ভোটারকে উজ্জীবিত করলেও সমালোচকরা সতর্ক করছেন। জাপানের সরকারি ঋণ (Government Debt) বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ। তার পপুলিস্ট ব্যয় নীতি স্থবির অর্থনীতিকে কতটা চাঙ্গা করতে পারবে, তা নিয়ে ব্যবসায়িক মহলে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া, অভিবাসন বিষয়ে তার রক্ষণশীল অবস্থান জাপানের বর্তমান ‘শ্রমিক সংকট’ (Labor Shortage) এবং দ্রুত হ্রাস পাওয়া জনসংখ্যা সমস্যার সমাধানে কতটা সহায়ক হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

জাপান এখন এক নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায়। সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে দেশটি বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি এবং অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে কেমন মোড় নেয়, সারা বিশ্বের নজর এখন সেদিকেই।

Tags: inflation sanae takaichi global politics japan election female prime minister ldp victory exit poll japan news