ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত হাই-ভোল্টেজ ম্যাচকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া জটিলতা নিরসনে নতুন আশার আলো দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ টানাপড়েন আর বয়কটের হুমকির পর অবশেষে লাহোরে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজার সঙ্গে পিসিবি প্রধান মোহসিন নাকভির এই রুদ্ধদ্বার আলোচনার পর ম্যাচটি আয়োজনের সম্ভাবনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
লাহোরে কূটনৈতিক তৎপরতা: বরফ গলার অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব লাহোরের ঐতিহাসিক গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যারাথন বৈঠকটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। বৈঠকে আইসিসি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ইমরান খাজা। বিশেষ বিষয় হলো, এই আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (BCB) পক্ষ থেকে আমিনুল ইসলাম বুলবুলসহ আরও বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। কূটনৈতিক এই তৎপরতা মূলত পাকিস্তানের অনড় অবস্থান থেকে সরে আসার পথ প্রশস্ত করতেই আয়োজন করা হয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
সূত্রমতে, বৈঠকে আইসিসি পাকিস্তানের উদ্বেগের জায়গাগুলো ধৈর্য সহকারে শুনেছে এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উত্থাপিত দাবিগুলোর প্রতি ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। বর্তমান সংকট নিরসনে এবং টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক ও স্পোর্টিং ভ্যালু রক্ষায় আইসিসি একটি বিশেষ ‘ফর্মুলা’ (Formula) বা রূপরেখা প্রস্তাব করেছে, যা বিসিবির অভিযোগগুলো সমাধানের কার্যকর উপায় হিসেবে কাজ করবে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি বৈঠক শেষে কিছুটা নমনীয় মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আইসিসির প্রস্তাবিত ফর্মুলাটি নিয়ে তারা গুরুত্বের সঙ্গে চিন্তাভাবনা করছেন। তবে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার বিষয়টি পুরোপুরি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। নাকভি স্পষ্ট করেছেন যে, আগামী দুই দিনের মধ্যে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করবেন এবং পুরো পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে দিকনির্দেশনা চাইবেন। ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত ম্যাচে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত খেলবে কি না, সেই চূড়ান্ত ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকেই আসবে।
ঘটনার নেপথ্যে: হ্যান্ডশেক বিতর্ক ও রাজনৈতিক সংঘাত উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে শোরগোল ফেলে দেয় পাকিস্তান। মূলত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। সেখানে তিনি অভিযোগ তুলেছিলেন যে, বাংলাদেশ দলকে বাদ দেওয়া এবং খেলার মাঠে ভারতের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের কারণেই তারা এই প্রতিবাদী অবস্থান নিয়েছেন। ক্রিকেট ও রাজনীতির এই সংমিশ্রণ আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে চরম অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও গ্লোবাল স্টেকহোল্ডারদের নজর খবরে জানা গেছে, পরিস্থিতির দ্রুত অগ্রগতির জন্য আজ বিকেলেই পিসিবি, আইসিসি এবং বিসিবি কর্মকর্তাদের মধ্যে আবারও ভার্চ্যুয়াল যোগাযোগ হওয়ার কথা রয়েছে। গ্লোবাল স্টেকহোল্ডার (Stakeholders) এবং সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলো এখন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে, কারণ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ওপর টুর্নামেন্টের বিশাল মার্কেট ভ্যালু (Market Value) নির্ভর করছে। যদি প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত পাওয়া যায়, তবে দীর্ঘ স্নায়ুযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ক্রিকেট প্রেমীরা আবারও সেই কাঙ্ক্ষিত দ্বৈরথ দেখার সুযোগ পাবেন।