• আন্তর্জাতিক
  • পশ্চিম তীরে একচ্ছত্র আধিপত্যের পথে ইসরাইল: নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার ‘বিপজ্জনক’ অনুমোদন, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

পশ্চিম তীরে একচ্ছত্র আধিপত্যের পথে ইসরাইল: নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার ‘বিপজ্জনক’ অনুমোদন, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

আন্তর্জাতিক ১ মিনিট পড়া
পশ্চিম তীরে একচ্ছত্র আধিপত্যের পথে ইসরাইল: নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার ‘বিপজ্জনক’ অনুমোদন, উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য

ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জমি কেনা সহজ করতে কয়েক দশকের পুরনো আইনি বাধা সরালো নেতানিয়াহু সরকার; ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি ও দমনপীড়ন বাড়ার আশঙ্কা।

ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে (West Bank) নিজেদের দখলদারিত্ব ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যেতে এক বিতর্কিত ও ‘বিপজ্জনক’ পদক্ষেপের অনুমোদন দিয়েছে ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা (Security Cabinet)। এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে অধিকৃত অঞ্চলে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জমি কেনা এবং দখল প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও আইনি ভিত্তি পাবে। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি এবং আইন প্রয়োগের নামে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের।

দখলদারিত্বের নতুন আইনি ছক: বাতিল হচ্ছে পুরনো বিধিনিষেধ ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম ‘ইয়নেট’ (Ynet) ও ‘হারেৎজ’ (Haaretz)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলের উগ্র-ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজের জোরালো প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কয়েক দশক ধরে বলবৎ থাকা এমন কিছু আইনি বিধিনিষেধ বাতিল করা হয়েছে, যা আগে পশ্চিম তীরে ইহুদি ব্যক্তিদের ব্যক্তিগতভাবে জমি কেনার ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করত।

বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে ইসরাইলি বসতি প্রকল্পের (Settlement Project) সম্প্রসারণ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। মূলত ফিলিস্তিনিদের পৈতৃক জমি দখল করে সেখানে স্থায়ী সার্বভৌমত্ব (Sovereignty) প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই এই প্রশাসনিক রদবদল করা হয়েছে।

স্মোট্রিচ-কাৎজ পরিকল্পনা: কী আছে এই পদক্ষেপে? নতুন অনুমোদিত এই নীতিমালায় ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রা আরও কঠিন করার একাধিক দিক রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ১. জমি কেনা সহজীকরণ: এখন থেকে কোনো ধরনের বিশেষ অনুমতি ছাড়াই ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা পশ্চিম তীরের যে কোনো প্রান্তে জমি ক্রয়ের সুযোগ পাবে। ২. নিরাপত্তা ও নজরদারি: বিতর্কিত ‘ই-ওয়ান’ (E1) প্রকল্পের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর কঠোর নজরদারি চালানোর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট গঠন করা হবে। ৩. বসতি বৈধকরণ: পুরনো বা অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ছোট ছোট ইহুদি বসতিগুলোকে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি বৈধতা প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

ফিলিস্তিনের তীব্র প্রতিবাদ ও বৈশ্বিক উদ্বেগের ডাক ইসরাইলের এই আগ্রাসী সিদ্ধান্তের কড়া নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (Palestinian Authority)। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয় থেকে একে ‘খোলামেলা ভূমি দখল’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্সি সতর্ক করে বলেছে, এই পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করবে এবং ‘টু-স্টেট সলিউশন’ বা দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনাকে চিরতরে সমাহিত করবে।

ফিলিস্তিন সরকার এই সংকটময় মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (UN Security Council) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে সার্বভৌমত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

উত্তপ্ত মধ্যপ্রাচ্য ও মানবাধিকার হরণ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো মনে করছে, ইসরাইলের এই নতুন নীতি পশ্চিম তীরের জনতাত্ত্বিক কাঠামো (Demographic Structure) বদলে দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত প্রয়াস। এর ফলে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি ইসরাইলি দখলদার বাহিনীর হাতে তাদের মানবাধিকার (Human Rights) লঙ্ঘনের ঘটনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে যখন গাজা যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় পশ্চিম তীরে ইসরাইলের এই নয়া রণকৌশল মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো বড় সংঘাতের সূত্রপাত ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Tags: middle east international law human rights west bank palestinian authority israel news land acquisition security cabinet smotrich plan settlement expansion