• দেশজুড়ে
  • নির্বাচনী প্রচারণায় হকারকে টাকা দিলেন শাহরিয়ার কবির: ‘মানবিকতা’ নাকি আচরণবিধি লঙ্ঘন?

নির্বাচনী প্রচারণায় হকারকে টাকা দিলেন শাহরিয়ার কবির: ‘মানবিকতা’ নাকি আচরণবিধি লঙ্ঘন?

দেশজুড়ে ১ মিনিট পড়া
নির্বাচনী প্রচারণায় হকারকে টাকা দিলেন শাহরিয়ার কবির: ‘মানবিকতা’ নাকি আচরণবিধি লঙ্ঘন?

ঢাকা-১৫ আসনের জামায়াত প্রার্থীর ভাইরাল ভিডিও ঘিরে সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া; বিতর্কের মুখে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরের সাফাই।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তাপ যত বাড়ছে, ততই নিত্যনতুন ঘটনায় সরগরম হয়ে উঠছে ডিজিটাল মাধ্যম। এবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ঢাকা-১৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার এএসএম শাহরিয়ার কবির। নির্বাচনী প্রচারণার সময় এক পানের হকারকে এক হাজার টাকার একটি নোট দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে 'Viral' হওয়ার পর শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি নেহাতই মানবিকতা, নাকি সরাসরি 'Election Code of Conduct' বা নির্বাচনী আচরণবিধির স্পষ্ট লঙ্ঘন?

ভিডিওতে যা দেখা গেছে: রিজিক ও আধ্যাত্মিক কথোপকথন

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির রাস্তার পাশে এক বৃদ্ধ পান বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলছেন। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তিনি ওই বিক্রেতার কাছে ব্যবসা ও দেশের পরিস্থিতি জানতে চান। বয়স্ক ওই ব্যক্তি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্ক ও আশঙ্কার কথা জানালে শাহরিয়ার কবির তাকে ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর অটল থাকার পরামর্শ দেন।

তিনি প্রশ্ন করেন, "রিজিকের মালিক কে?" উত্তরে হকার 'আল্লাহ' বললে শাহরিয়ার কবির তাকে আশ্বস্ত করেন। এরপর চলে যাওয়ার সময় তিনি ওই বৃদ্ধের হাতে এক হাজার টাকার একটি নোট গুঁজে দেন। এই পুরো দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দি হয়ে মুহূর্তেই ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে।

আইনি মারপ্যাঁচ: আরপিও (RPO) ও ‘ঘুষ’ সংক্রান্ত ব্যাখ্যা

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (Representation of the People Order), ১৯৭২-এর ৭৫ নম্বর অনুচ্ছেদে নির্বাচনী অপরাধ ও শাস্তির বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। সেখানে ‘ঘুষ’ (Bribery) গ্রহণ ও প্রদানকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, যদি কোনো ‘Candidate’ বা প্রার্থী কোনো ভোটারকে ভোট দিতে উৎসাহিত করতে কিংবা বিরত রাখতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অর্থ প্রদান করেন বা প্রতিশ্রুতি দেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনী প্রচারণার সময় কোনো প্রার্থী কর্তৃক নগদ অর্থ প্রদান ভোটারকে প্রভাবিত করার শামিল হতে পারে, যা নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার সুযোগ তৈরি করে।

ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবিরের সাফাই: ‘মানবিকতা বনাম ষড়যন্ত্র’

বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি দাবি করেন, এই অর্থ প্রদান কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছিল না। তিনি বলেন, “গরিব ওই ব্যবসায়ীর সারাদিন কোনো বিক্রি হয়নি শুনে আমি কেবল মানবিক দিক বিবেচনায় তাকে সাহায্য করেছি। আমি তো তার কাছে ভোট চাইনি।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, একই এলাকায় তিনি শিশুদের খেলনা কেনার জন্যও টাকা দিয়েছেন, যা নিয়ে কোনো বিতর্ক হচ্ছে না। অথচ একজন বৃদ্ধ মানুষকে সাহায্য করাটাকে ইস্যু বানানো হচ্ছে। তার মতে, “মানুষকে সাহায্য করাটাও এখন বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

ডিজিটাল দুনিয়ায় এই ঘটনাটি নিয়ে জনমত দ্বিধাবিভক্ত। একদল নেটিজেন একে প্রার্থীর ‘সহজ-সরল উদারতা’ হিসেবে দেখলেও, সমালোচকদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, ‘Publicity’ পাওয়ার উদ্দেশ্যে এবং ভোটারদের মন জিততে এটি একটি ‘Strategic Move’।

নির্বাচন কমিশনের (EC) পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও, নির্বাচনী মাঠে থাকা পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রার্থীরা যদি মানবিকতার আড়ালে অর্থ বিতরণ শুরু করেন, তবে তা একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে পারে।

ঢাকা-১৫ আসনের এই ঘটনাটি এখন কেবল একটি ভাইরাল ভিডিও নয়, বরং নির্বাচনী নৈতিকতা ও আইনের প্রয়োগ নিয়ে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।