ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা যখন শেষ তুঙ্গে, তখন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর আমিন পাড়ায় আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় তার দেওয়া এক বক্তব্য বর্তমানে স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘Talk of the Town’-এ পরিণত হয়েছে। ভোটারদের উদ্দেশ্যে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, কেউ যদি ভোটের আগে ‘উপহার’ হিসেবে টাকা দিতে চায়, তবে তা যেন হাসিমুখে গ্রহণ করা হয়, কিন্তু ভোটটি যেন তার নির্ধারিত ‘হাঁস’ প্রতীকেই পড়ে।
‘অবৈধ টাকা নিলেও বিবেক বিক্রি করবেন না’
জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে রুমিন ফারহানা এক অভিনব ‘Election Strategy’ বা নির্বাচনী কৌশল অবলম্বন করেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “ভোটের আগে কেউ আপনেরারে উপহার দিতে পারে। এটা লইয়া লইয়েন। টাকা নিবেন তাগো (প্রতিপক্ষ), ভোট দিবেন হাঁসো।”
এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, যারা টাকা দিয়ে জনমত প্রভাবিত করতে চায় বা ভোট কিনতে চায়, সেই অর্থ মূলত ‘Illegal Money’ বা অবৈধ সম্পদ। তাই সেই টাকা গ্রহণ করা কোনো অপরাধ নয়, তবে অর্থের বিনিময়ে নিজের ভোটাধিকার বা বিবেক বিক্রি করা হবে চরম নৈতিক স্খলন। তিনি ভোটারদের সচেতন করে বলেন, “যারা টাকা দিতে চায় তাদের টাকা নিবেন, কিন্তু এই অপরাধের অংশীদার হবেন না। কারণ মানুষের বিবেক কোনো পণ্য নয় যে তা বাজারে কেনা যাবে।”
ভোটের ‘Market Value’ ও ভোটারের গুরুত্ব
নির্বাচনী প্রচারণায় রুমিন ফারহানা ভোটারদের প্রতিটি ভোটের গুরুত্ব ও ‘Democracy’ বা গণতন্ত্রে সাধারণ মানুষের শক্তির কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে বলেন, “সবাই সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। অনেকে মনে করতে পারেন আপনার একটি মাত্র ভোট হয়তো কোনো প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু আমার কাছে প্রতিটি ভোট অত্যন্ত মূল্যবান এবং পরিবর্তনের হাতিয়ার।” বিলম্ব করলে ভোটকেন্দ্রে ভিড় বাড়তে পারে এবং সাধারণ ভোটাররা অনীহা প্রকাশ করে ফিরে যেতে পারেন—এমন আশঙ্কা থেকে তিনি দ্রুত ভোট দেওয়ার ওপর জোর দেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থীর চ্যালেঞ্জ ও জনসমর্থন
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এই অবস্থানকে বিশ্লেষকরা প্রতিপক্ষের প্রতি এক ধরনের ‘Psychological Warfare’ বা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ হিসেবে দেখছেন। বড় দলগুলোর প্রার্থীরা যখন বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে সরব, তখন রুমিন ফারহানা সাধারণ মানুষের ভাষায় কথা বলে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছেন। তার ‘হাঁস’ প্রতীককে কেন্দ্র করে এলাকায় ইতোমধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
এদিনের জনসভায় বিপুল সংখ্যক নারী ও পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা রুমিন ফারহানার এই স্পষ্টবাদিতাকে স্বাগত জানালেও নির্বাচনী আচরণবিধি ও ‘Election Ethics’-এর জায়গা থেকে বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তবে রুমিন ফারহানা সমর্থকদের দাবি, এটি ভোটারদের লোভের হাত থেকে বাঁচিয়ে সঠিক প্রার্থী নির্বাচনের একটি সাহসী ডাক।
নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের লড়াই ততই জমে উঠছে। শেষ পর্যন্ত রুমিন ফারহানার এই ‘টাকা গ্রহণ ও প্রতীকে ভোট’ ফর্মুলা ব্যালট বক্সে কতটা কার্যকর হয়, তা দেখতে মুখিয়ে আছে পুরো জেলা।