লন্ডনের ডাউনিং স্ট্রিটে এখন অস্থির সময় পার করছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। রাষ্ট্রদূত নিয়োগের একটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক এখন তাঁর গদি টলিয়ে দেওয়ার উপক্রম হয়েছে।
সহযোগীদের গণপদত্যাগ ও নেতৃত্বের সংকট পিটার ম্যান্ডেলসনের নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্টারমারের দুই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর চিফ অব স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি প্রথমে দায়িত্ব ছাড়েন। এর পরপরই যোগাযোগ প্রধান টিম অ্যালানও পদত্যাগ করেন। এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিদায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বকে জনসমক্ষে আরও দুর্বল ও চাপের মুখে ফেলেছে।
নিজ দল থেকেই পদত্যাগের দাবি স্টারমারের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে স্কটিশ লেবার পার্টির পক্ষ থেকে। স্কটিশ লেবার নেতা আনাস সারওয়ার প্রকাশ্যে কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ডাউনিং স্ট্রিটে একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই। সারওয়ারের মতে, এই বিতর্ক আগামী স্কটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবির কারণ হতে পারে।
নির্বাচনী জরিপে ভরাডুবি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে জনমত জরিপেও। জরিপ অনুযায়ী, স্কটল্যান্ডে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে এবং তারা বর্তমানে তৃতীয় অবস্থানে নেমে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হওয়াই এই পতনের মূল কারণ।
অনড় ডাউনিং স্ট্রিট এত চাপের মুখেও এখনই ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ কিয়ার স্টারমার। ডাউনিং স্ট্রিট থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন না এবং তিনি দেশ পরিচালনায় মনোনিবেশ করছেন। মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্যও তাঁকে সমর্থন জুগিয়ে চলেছেন। তাদের দাবি, এই মুহূর্তে নেতৃত্ব পরিবর্তন করলে দেশে আরও বেশি অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।