• রাজনীতি
  • "১১ দলীয় জোটকে টার্গেট করছে প্রশাসন ও মিডিয়া, সবকিছুর নোট রাখা হচ্ছে": আসিফ মাহমুদের কড়া হুঁশিয়ারি

"১১ দলীয় জোটকে টার্গেট করছে প্রশাসন ও মিডিয়া, সবকিছুর নোট রাখা হচ্ছে": আসিফ মাহমুদের কড়া হুঁশিয়ারি

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
"১১ দলীয় জোটকে টার্গেট করছে প্রশাসন ও মিডিয়া, সবকিছুর নোট রাখা হচ্ছে": আসিফ মাহমুদের কড়া হুঁশিয়ারি

ভোটের আগের রাতে প্রার্থীদের ওপর হামলা ও এজেন্টদের হুমকির অভিযোগ এনসিপি মুখপাত্রের; জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে জবাবদিহির ডাক।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোটের ঠিক আগের রাতে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তার দাবি, স্থানীয় প্রশাসন এবং দেশের বেশ কিছু প্রভাবশালী মিডিয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ১১ দলীয় জোটকে টার্গেট করছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ উত্থাপন করেন।

প্রশাসন ও মিডিয়ার ‘একপাক্ষিক’ ভূমিকার সমালোচনা

সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পরিবেশ কলুষিত করতে প্রশাসন ও সংবাদমাধ্যমগুলোর একটি অংশ একপাক্ষিক আচরণ করছে। তিনি বলেন, “আমরা উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, আমাদের জোটের প্রার্থীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে এবং পোলিং এজেন্টদের সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ‘টাকা উদ্ধারের’ নাম করে আমাদের অনেক নেতাকর্মীকে ব্যক্তিগতভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। মূলত স্থানীয় প্রশাসন ও মিডিয়ার একটি অংশ প্রোপাগান্ডা বা Misinformation ছড়িয়ে আমাদের নির্বাচনি প্রচারণায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।”

জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের নিরাপত্তাহীনতা ও অব্যবস্থাপনা

নির্বাচনি অপরাধ দমনে নিয়োজিত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের যথাযথ লজিস্টিক সাপোর্ট (Logistical Support) দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি বলেন, “মাঠ পর্যায়ে কর্মরত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও যানবাহন দেওয়া হচ্ছে না। আমাদের সন্দেহ, এটি একটি সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা যাতে ভোটকেন্দ্র দখলের মতো ঘটনা ঘটলেও ম্যাজিস্ট্রেটরা দ্রুত পদক্ষেপ নিতে না পারেন। একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে ম্যাজিস্ট্রেটদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের সাংবিধানিক দায়িত্ব।”

“সব নোট রাখা হচ্ছে”: সংবাদমাধ্যমকে চরম বার্তা

সংবাদ সম্মেলনে সবচাইতে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় দেশের কতিপয় সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে। আসিফ মাহমুদ সরাসরি বলেন, “যে মিডিয়াগুলো নগ্নভাবে পক্ষপাতিত্ব বা Biasness দেখাচ্ছে, তারা মনে করবেন না যে পার পেয়ে যাবেন। আমরা প্রতিটি সংবাদপত্রের রিপোর্ট এবং চ্যানেলের খবরের ‘নোট’ রাখছি। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে যারা সত্য গোপন করে মিথ্যা প্রচার করছে, তাদের ১২ ফেব্রুয়ারির পর জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “অতীতের নির্বাচনগুলোর মতো এবার আর পার পাওয়া যাবে না। এবারের নির্বাচনের পর একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত তৈরি হবে, যেখানে প্রতিটি অন্যায় কাজের বিচার নিশ্চিত করা হবে। যারা নির্বাচনের আগে পক্ষপাতিত্ব করছেন, তাদের পরিণাম ভালো হবে না।”

নির্বাচনি অটলতা ও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

হুমকি ও হামলা সত্ত্বেও ১১ দলীয় জোট শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নির্বাচনি লড়াইয়ে টিকে থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আসিফ মাহমুদ। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসুন। কোনো অপশক্তি বা গুজবকে ভয় পাবেন না। যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের প্রতিহত করার জন্য সচেতন দেশবাসী ও তরুণ সমাজ প্রস্তুত রয়েছে।”

সারাদেশে ২৯৯টি আসনে আগামীকালকের ভোটগ্রহণ বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি ‘এসিড টেস্ট’ উল্লেখ করে তিনি নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। এনসিপির এই সংবাদ সম্মেলন নির্বাচনি ময়দানে বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।