ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর এবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকার গঠিত হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঐতিহাসিক এই বিজয়ের পর জনগণের ম্যান্ডেট (Mandate) অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে সুশাসন নিশ্চিত করাই এখন দলটির প্রধান লক্ষ্য।
জনগণের ভালোবাসার প্রতিফলন: মির্জা ফখরুল
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর দলের এই অভাবনীয় সাফল্যের মূল্যায়ন করেন। তিনি বলেন, “বিএনপির এই ‘ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি’ (Landslide Victory) মূলত সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। বিএনপি সবসময়ই জনগণের অধিকারের রাজনীতি করেছে এবং এবারের জনরায় প্রমাণ করে যে, দলটি কখনও জনপ্রিয়তা হারায়নি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত বছরের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবের চেতনা ও ‘জুলাই সনদের’ (July Charter) সকল অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিএনপি সরকার বদ্ধপরিকর। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।
সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ও গেজেট নোটিফিকেশন
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর তা সরকারি গেজেট (Gazette Notification) আকারে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক। গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ (Swearing-in Ceremony) করার বিধান রয়েছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, আজ শুক্রবারই ২৯৭টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করার সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এই গেজেট প্রকাশের পরই রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আহ্বান জানানো হবে।
নির্বাচনী সমীকরণ ও স্থগিত আসন
ইসি সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ৩০০ আসনের নির্বাচনে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এর মধ্যে ২৯৭টি আসনের ফলাফল ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে আইনি ও কৌশলগত কারণে চট্টগ্রাম-২ এবং চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নিয়ম অনুযায়ী ওই আসনের ভোটগ্রহণ আগেই স্থগিত করা হয়েছিল।
নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে আইন-শৃঙ্খলার আধুনিকায়ন, ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক সংস্কার। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যে আধুনিক ও ডিজিটাল বাংলাদেশের (Digital Bangladesh) স্বপ্ন দেখিয়েছে, তা বাস্তবায়নে দক্ষ জনবল ও সঠিক পলিসি মেকিং (Policy Making) এখন সময়ের দাবি।
রোববার যদি নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেয়, তবে সেটি হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক। এখন কেবল বঙ্গভবনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষা।