বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের অবসানের পর দেশের রাজনীতির পটপরিবর্তন এখন বিশ্বমঞ্চে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রায় দেড় বছরের ব্যবধানে অনুষ্ঠিত গত বৃহস্পতিবারের (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির অভাবনীয় জয়ের ঢেউ আছড়ে পড়ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে।
গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচনে ‘ক্লিন সুইপ’ গত ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর এটিই ছিল দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনী ফলাফলে দেখা গেছে, জাতীয় সংসদের ৩০০টি আসনের মধ্যে ইতিমধ্যে দুই শতাধিক আসনে নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত করেছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। এই বিশাল জয়কে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি’ (Landslide Victory) হিসেবে অভিহিত করছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কেড়ে নেওয়া এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের পর তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানানোর তালিকায় যুক্ত হলেন ভুটানের সরকারপ্রধান।
নেতৃত্বের ওপর জনগণের আস্থার প্রতিফলন শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় জনাব তারেক রহমান ও বিএনপিকে আমার পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন।’ তিনি তার বার্তায় বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, নির্বাচনে এই বিপুল জনসমর্থন বা ‘Public Mandate’ তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বের ওপর বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের গভীর আস্থারই বহিঃপ্রকাশ। এই বিজয় বাংলাদেশে শান্তি, সুশাসন ও অগ্রগতির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও আঞ্চলিক কূটনীতি কেবল অভিনন্দন বার্তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেননি শেরিং তোবগে। তিনি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক কূটনীতি বা ‘Regional Diplomacy’-র প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যকার বিদ্যমান ভ্রাতৃত্বপূর্ণ ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে দুই দেশের মধ্যকার ‘Bilateral Relations’ বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে তিনি অত্যন্ত আগ্রহী।
বিশ্বনেতাদের অভিবাদন ও রাজনৈতিক স্থিরতা উল্লেখ্য, গত দুই দিনে তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ (USA) বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা। এর আগে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টও তার বার্তায় তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তারেক রহমানকে দেওয়া এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের আগামীর ‘Political Stability’ বা রাজনৈতিক স্থিরতার জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনী ডামাডোল পেরিয়ে এখন নতুন সরকার গঠনের অপেক্ষায় দেশ। আর এই ক্রান্তিলগ্নে বিশ্বনেতাদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন তারেক রহমানের নেতৃত্বের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও শক্তিশালী করল।