• রাজনীতি
  • অভিজ্ঞতার প্রজ্ঞা ও তারুণ্যের জয়গান: নতুন বাংলাদেশের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় চমক যারা

অভিজ্ঞতার প্রজ্ঞা ও তারুণ্যের জয়গান: নতুন বাংলাদেশের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় চমক যারা

রাজনীতি ১ মিনিট পড়া
অভিজ্ঞতার প্রজ্ঞা ও তারুণ্যের জয়গান: নতুন বাংলাদেশের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভায় চমক যারা

তারেক রহমানের ‘ইনক্লুসিভ’ সরকার গঠনে একদিকে রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিক, অন্যদিকে যুক্ত হচ্ছেন প্রযুক্তি-নির্ভর নতুন প্রজন্ম; অন্দরমহলের ৪১ সদস্যের তালিকায় একগুচ্ছ আলোচিত মুখ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ ও ঐতিহাসিক বিজয়ের পর এখন দেশজুড়ে একটিই প্রশ্ন—কে হচ্ছেন নতুন বাংলাদেশের সারথি? দীর্ঘ দেড় দশকের আন্দোলন-সংগ্রাম শেষে এবার রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিতে যাচ্ছে বিএনপি ও তার মিত্ররা। বঙ্গভবন থেকে গুলশান কার্যালয়—সবখানেই এখন সাজ সাজ রব। আগামী সোমবারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে রাজনৈতিক অন্দরমহলে ঘুরপাক খাচ্ছে সম্ভাব্য ৪১ সদস্যের একটি মন্ত্রিপরিষদ তালিকা। যেখানে অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের প্রজ্ঞার পাশাপাশি তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তির এক অনন্য সংমিশ্রণ দেখা যেতে পারে।

অভিজ্ঞতার ‘থিংক-ট্যাঙ্ক’ ও কূটনৈতিক ফ্রন্ট নতুন সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প দেখছে না দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। সম্ভাব্য তালিকায় দলের দীর্ঘ সময়ের কান্ডারি ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রয়েছেন শীর্ষ অবস্থানে। এছাড়া দলের ‘থিংক-ট্যাঙ্ক’ (Think-tank) হিসেবে পরিচিত ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ও কূটনৈতিক তৎপরতায় দক্ষ আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অন্তর্ভুক্তি প্রায় নিশ্চিত। রাষ্ট্রের প্রশাসনিক সংস্কার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনে এই প্রবীণ নেতাদের ওপরই পূর্ণ আস্থা রাখছেন তারেক রহমান।

আইনি জটিলতা নিরসনে ‘লিগ্যাল স্কোয়াড’ বিগত সরকারের আমলে হওয়া অসংখ্য মামলা ও সাংবিধানিক জটিলতা নিরসনে নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ আইনজীবীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এবং ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের মতো ঝানু আইনজীবীরা গুরুত্বপূর্ণ ‘Portfolio’ বা দপ্তর পেতে পারেন। এছাড়া আইনি লড়াইয়ের অগ্রভাগে থাকা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

পুরস্কৃত হতে পারেন রাজপথের লড়াকু সৈনিকরা দীর্ঘ দেড় দশক রাজপথ কাঁপানো এবং জেল-জুলুম সহ্য করা নেতাদের এবার বড় দায়িত্ব দিয়ে পুরস্কৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই তালিকায় অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মতো হেভিওয়েট নেতারা রয়েছেন। বিশেষ করে দীর্ঘদিন নিঁখোজ থাকার পর ফিরে আসা সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সাহসী ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর নাম আলোচনায় শীর্ষে। এছাড়াও প্রবীণ নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর মতো অভিজ্ঞ সামরিক কর্মকর্তাদেরও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা বা প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।

শরিক দল ও তরুণ প্রজন্মের ‘নিউ ব্লাড’ নতুন বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে বড় চমক হতে পারে ‘জোট’ সরকার ও তরুণদের জয়জয়কার। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট ধরে রাখতে গণ-অধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, এনডিএম-এর ববি হাজ্জাজ, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকী এবং প্রভাবশালী বক্তা ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের মতো আলোচিত নামগুলো এই তালিকায় রয়েছে।

পাশাপাশি তরুণদের মধ্য থেকে ইশরাক হোসেন, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল এবং ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিনের মতো নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিদের ‘Policy Maker’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের জন্য ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের নামও বেশ জোরেশোরে শোনা যাচ্ছে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার: নারী ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব একটি ‘Inclusive Government’ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠনের লক্ষে মন্ত্রিসভায় সমতল ও পাহাড়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হচ্ছে। দীপেন দেওয়ান, সাচিং প্রু চৌধুরী এবং অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর মতো নেতাদের উপস্থিতি এই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। নারীদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে শামা ওবায়েদ, ফারজানা শারমিন পুতুল এবং তাহসিনা রুশদীর লুনার মতো উচ্চ শিক্ষিত ও রাজনৈতিকভাবে সচেতন নেত্রীদের রাখা হতে পারে। পেশাজীবী কোটায় চিকিৎসক নেতা এ জেড এম জাহিদ হোসেনের নামও তালিকায় রয়েছে।

অর্থনৈতিক সংস্কার ও গ্লোবাল ইমেজ দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কার ও বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে তারেক রহমান কিছু ‘Technocrat’ বা বিশেষজ্ঞ কোটায় নেতা যুক্ত করতে পারেন। এই তালিকায় বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া, অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং তথ্য-প্রযুক্তিতে দক্ষ ও আধুনিক ডিজিটাল প্রচারণায় অভিজ্ঞ এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামানের নাম আলোচিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ৪১ সদস্যের এই তালিকাটি এখনো পর্যন্ত একটি ‘Speculated List’ বা সম্ভাব্য খসড়া মাত্র। দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিজ্ঞতার ভারসাম্য আর তারুণ্যের প্রাণশক্তি মিলিয়ে এই মন্ত্রিসভা গঠিত হলে তা হবে আগামীর বাংলাদেশের জন্য একটি ‘Strategic’ পদক্ষেপ। পুরো জাতি এখন অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছে সোমবারের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য।

Tags: tarique rahman bangladesh politics mirza fakhrul good governance youth leadership new government bnp cabinet potential ministers cabinet list policy makers