২০০ কোটি রুপি জালিয়াতির মামলায় দিল্লির তিহার জেলে বন্দি সুকেশ চন্দ্রশেখর। তবে জেলের দেয়াল তার ভালোবাসায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ভালোবাসা দিবসের বিশেষ উপহার হিসেবে তিনি জ্যাকলিনকে একটি কালো রঙের হেলিকপ্টার পাঠিয়েছেন।
উপহারে বিশেষ চমক ও কারণ সুকেশের দাবি অনুযায়ী, মুম্বাইয়ের যানজট এড়িয়ে জ্যাকলিন যেন সহজে যাতায়াত করতে পারেন, সেজন্যই এই বিশেষ উপহারের ব্যবস্থা। হেলিকপ্টারটির গায়ে জ্যাকলিনের নামের আদ্যক্ষর খোদাই করা রয়েছে। সুকেশ চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, এটি তার ‘কষ্টার্জিত’ অর্থে কেনা, কোনো অপরাধলব্ধ অর্থ দিয়ে নয়। যদিও তার এই দাবির সত্যতা নিয়ে জনমনে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।
আবেগঘন প্রেমপত্র ও ‘বেবি বম্মা’ সম্বোধন উপহারের সঙ্গে পাঠানো চিঠিতে সুকেশ জ্যাকলিনকে ‘বেবি বম্মা’ বলে সম্বোধন করেছেন। চিঠিতে তিনি তার একাকিত্বের কথা জানিয়ে লেখেন, “দীর্ঘদিন তোমাকে না দেখে আমার অবস্থা মরুভূমিতে হারিয়ে যাওয়া মানুষের মতো। আমাদের মধ্যে দূরত্ব থাকলেও ভালোবাসা সেতুর মতো কাজ করছে।” আইনি জটিলতার কারণে জ্যাকলিনকে যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, সেজন্য তিনি ক্ষমাও চেয়েছেন। চিঠিতে সুকেশ আরও দাবি করেন যে, জ্যাকলিনের মনের ওপর অন্য কোনো পুরুষের অধিকার নেই।
পুরনো অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি এটিই প্রথম নয় যে সুকেশ জেল থেকে জ্যাকলিনকে বহুমূল্য উপহার পাঠালেন। গত বছরের ভালোবাসা দিবসেও তিনি অভিনেত্রীকে একটি প্রাইভেট জেট উপহার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে হীরা ও নামী ব্র্যান্ডের ব্যাগ পাঠিয়ে বারবার সংবাদের শিরোনাম হয়েছেন এই ব্যবসায়ী।
জ্যাকলিনের অবস্থান ও আইনি জটিলতা সুকেশ চন্দ্রশেখর বারবার তার প্রেমের কথা প্রকাশ করলেও জ্যাকলিন ফার্নান্দেজ শুরু থেকেই তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক অস্বীকার করে আসছেন। তবে সুকেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে এই অভিনেত্রীকেও ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার (ইডি) জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। আইনি জটিলতা সত্ত্বেও সুকেশের এই একতরফা উপহার প্রদান বলিউড এবং আইনি মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।