• বিনোদন
  • বাস্তবের কাছাকাছি চরিত্রেই নিজেকে খুঁজে পান অক্ষিতা মুদগল

বাস্তবের কাছাকাছি চরিত্রেই নিজেকে খুঁজে পান অক্ষিতা মুদগল

অভিনয় জীবনের লড়াই, অক্ষয় কুমারের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত এবং নতুন ধারাবাহিক নিয়ে খোলামেলা আড্ডায় জনপ্রিয় অভিনেত্রী অক্ষিতা মুদগল।

বিনোদন ১ মিনিট পড়া
বাস্তবের কাছাকাছি চরিত্রেই নিজেকে খুঁজে পান অক্ষিতা মুদগল

নাচের রিয়েলিটি শো থেকে শুরু করে টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ হয়ে ওঠা—অক্ষিতা মুদগলের ক্যারিয়ারের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। নতুন ধারাবাহিক 'লক্ষ্মী নিবাস'-এ অভিনয় দিয়ে সম্প্রতি আবারও আলোচনায় এসেছেন এই অভিনেত্রী। মুম্বাইয়ে প্রথম আলোর প্রতিনিধি দেবারতি ভট্টাচার্যের সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন তাঁর অভিনয় জীবনের সংগ্রাম, শৈশবের স্মৃতি এবং বলিউডের বড় তারকাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা।

বলিউড ও হিন্দি টেলিভিশনের পরিচিত মুখ অক্ষিতা মুদগল মনে করেন, পর্দায় কৃত্রিম 'নায়িকা' হয়ে ওঠার চেয়ে মাটির কাছাকাছি বা বাস্তবের চরিত্রগুলো ফুটিয়ে তোলা বেশি তৃপ্তিদায়ক। নতুন ধারাবাহিক 'লক্ষ্মী নিবাস'-এ যুক্ত হওয়ার পেছনেও ছিল এই একই কারণ।

মধ্যবিত্ত জীবনের গল্পে মুগ্ধতা অক্ষিতা জানান, এই ধারাবাহিকের গল্পটি মূলত এক মধ্যবয়সী দম্পতি ও তাঁদের অপূর্ণ স্বপ্নকে ঘিরে। সচরাচর তরুণ প্রজন্মের প্রেম-বিরহ দেখা গেলেও এখানে গুরুত্ব পেয়েছে পরিণত বয়সের আবেগ। অক্ষিতার ভাষায়, "আমাকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, এখানে 'নায়িকা' হওয়ার দরকার নেই, বরং চরিত্রটাকে বাস্তবের কাছাকাছি রাখতে হবে। এই সততাই আমাকে টেনেছে।"

আগ্রা থেকে মুম্বাই: এক কঠিন যাত্রা মাত্র ১০ বছর বয়সে আগ্রা থেকে মুম্বাই পাড়ি দিয়েছিলেন অক্ষিতা। সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, "লড়াই ছিল প্রচুর। এমন সময় গেছে যখন এক রাত আমাদের ঘরছাড়া থাকতে হয়েছে। কিন্তু মা ছিলেন আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। মা ভেঙে পড়লে আমি হয়তো আজ এখানে থাকতাম না।" শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করায় শৈশব হারানোর আক্ষেপ নেই তাঁর, বরং মা-বাবার আদরে আজও তিনি সেই ছোট্ট মেয়েটিই আছেন বলে মনে করেন।

অক্ষয় কুমারের সঙ্গে 'টিক-ট্যাক-টো' খেলা ক্যারিয়ারের শুরুতে অক্ষয় কুমার ও ইমরান হাশমির মতো তারকাদের সঙ্গে কাজ করেছেন অক্ষিতা। অক্ষয় কুমারের একটি মজার স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, "শুটিংয়ের ফাঁকে অক্ষয় স্যার জিজ্ঞেস করেছিলেন কে ওনার সঙ্গে 'টিক-ট্যাক-টো' খেলবে। আমাকে বেছে নিয়ে ১০০ টাকার বাজি ধরেছিলেন। জেতার পর মজার ছলে টাকা চাইলে বলেছিলাম টাকা তো মায়ের কাছে। উনি হেসেই কুটিপাটি!"

মাধুরী দীক্ষিত ও নাচের প্রতি ভালোবাসা অক্ষিতার চিরকালীন অনুপ্রেরণা মাধুরী দীক্ষিত। 'ড্যান্স ইন্ডিয়া ড্যান্স' দিয়ে শুরু করা অক্ষিতা একসময় কোরিওগ্রাফার হতে চেয়েছিলেন। এখন অভিনয়ে থিতু হলেও তিনি মনে করেন, নাচ আর অভিনয় একে অপরের পরিপূরক। নাচের মাধ্যমে অর্জিত অভিব্যক্তি তাঁর অভিনয়কে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

শারীরিক অসুস্থতা ও ঘুরে দাঁড়ানো পেশাগত প্রতিযোগিতার চেয়েও অক্ষিতার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন সময়। সম্প্রতি মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘদিন অন্যের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয়েছে তাঁকে। সেই সময় ধৈর্য এবং পরিবারের সমর্থন তাঁকে নতুন করে শক্তি জুগিয়েছে। লিঙ্গবৈষম্য বা প্রতিযোগিতা নিয়ে চিন্তিত নন তিনি; বরং বিশ্বাস করেন প্রতিটি মাধ্যম—তা টিভি হোক বা ওটিটি—সেখানে টিকে থাকার চাবিকাঠি হলো প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করা।

Tags: bollywood news akshita-mudgal hindi-television lakshmi-niwas entertainment-interview akshita-mudgal-story