বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন মাইলফলক
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পে আবারও গৌরবের সংবাদ বয়ে আনল নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেনের নতুন ছবি ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’। ইতালির অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ‘ফন্ডাজিওনে প্রাডা’ (Fondazione Prada)-এর চলচ্চিত্র তহবিল থেকে বড় অংকের অনুদান লাভ করেছে ছবিটি। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী তাদের নির্বাচিত প্রকল্পের তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে ১৪টি দেশের বাছাই করা সিনেমার মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের এই সিনেমাটি। এটি কেবল রুবাইয়াত হোসেনের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র বাজারে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতারও একটি বড় নিদর্শন।
পোস্ট-প্রোডাকশনের সংকট কাটছে বড় অংকের অর্থায়নে
বর্তমানে পোস্ট-প্রোডাকশন (Post-Production) পর্যায়ে থাকা এই ছবিটি ‘ফন্ডাজিওনে প্রাডা’ থেকে প্রায় ৮০ হাজার ইউরো অনুদান পেয়েছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। একক কোনো বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জন্য এই অংকের আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নির্মাতা রুবাইয়াত হোসেন জানান, এই সহায়তা তাঁর ছবির জন্য এক বড় স্বস্তির খবর। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ছবিটির পোস্ট-প্রোডাকশনের কিছু সূক্ষ্ম কাজ নিয়ে আমরা বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি ছিলাম। বিশেষ করে এর ভিডিও ইফেক্ট বা ‘ভিএফএক্স’ (VFX) এবং ভিজ্যুয়াল ট্রিটমেন্টের (Visual Treatment) ক্ষেত্রে এই তহবিল আমাদের কাজকে আরও পেশাদার ও নিখুঁত করতে সহায়তা করবে।”
সামাজিক পটভূমি ও হররের মেলবন্ধন
‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ স্রেফ কোনো সাধারণ বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র নয়। এটি মূলত বিয়ে ও সৌন্দর্যচর্চাকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি ‘সোশ্যাল ড্রামা’ (Social Drama), যার পরতে পরতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে হরর (Horror) এলিমেন্ট। একটি বিউটি পারলারের রহস্যময় পরিবেশকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে সিনেমার কাহিনী। সেখানে নারীর আত্মপরিচয়, সামাজিক প্রত্যাশা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার এক ভিন্নধর্মী বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলেছেন নির্মাতা। রুবাইয়াত হোসেনের সিনেমা মানেই নারী দর্শনের এক শক্তিশালী বয়ান, আর এবার তার সঙ্গে ভৌতিক আবহের মিশ্রণ দর্শকদের জন্য নতুন কিছু বয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পাঁচ দেশের যৌথ প্রযোজনা ও শক্তিশালী কাস্টিং
আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ছবিটির গ্রহণযোগ্যতার অন্যতম কারণ এর বিশাল ব্যাপ্তি। এটি বাংলাদেশ, ফ্রান্স, পর্তুগাল, নরওয়ে ও জার্মানি—এই পাঁচ দেশের একটি বড় কো-প্রোডাকশন (Co-production) প্রজেক্ট। এর আগে সিনেমাটি ইউরোপের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘ইউ ইমেজেস’ (Eurimages) থেকেও আর্থিক সহায়তা পেয়েছিল।
ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন জাইনীন করিম। তাঁর পাশাপাশি পর্দা মাতাতে দেখা যাবে একঝাঁক প্রতিভাবান অভিনেত্রীকে, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তারকা আজমেরী হক বাঁধন, সুনেরাহ বিনতে কামাল এবং রিকিতা নন্দিনী শিমু। সব ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন হলে ছবিটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে (যেমন কান কিংবা ভেনিস) প্রিমিয়ার করার পরিকল্পনা রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।