আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ কমাতে মাদারীপুরে শুরু হয়েছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (TCB)-এর সুলভ মূল্যে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে জেলার পাঁচটি উপজেলাতেই একযোগে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে বাজার মূল্যের (Market Value) চেয়ে অনেক কম দামে প্রয়োজনীয় সামগ্রী হাতে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।
সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্যসেবা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচির আওতায় এই বিশেষ ‘প্যাকেজ’ সাজানো হয়েছে। মাদারীপুর পৌর ঈদগাহ মাঠে এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সদর উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা মো. আতিয়ার রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেখা যায় রিকশাচালক, ভ্যানচালক এবং দিনমজুরসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের দীর্ঘ লাইন। সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রত্যেকে ৫৯০ টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করছেন রমজানের অতিপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী।
প্যাকেজে যা যা থাকছে বাজারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় টিসিবি অত্যন্ত সাশ্রয়ী দরে পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করেছে। একজন ক্রেতা ৫৯০ টাকার প্যাকেজে পাচ্ছেন:
চিনি (১ কেজি) - ৮০ টাকা
মশুর ডাল (১ কেজি) - ৭০ টাকা
ভোজ্য তেল (২ লিটার) - ১১৫ টাকা (প্রতি লিটার)
ছোলা (১ কেজি) - ৬০ টাকা
খেজুর (১ কেজি) - ১৬০ টাকা
ভোক্তারা জানিয়েছেন, খোলা বাজারের তুলনায় এই দাম অনেক কম, যা তাঁদের মাসিক বাজেটে বড় ধরনের সাশ্রয় নিশ্চিত করছে। বিশেষ করে রমজানের অপরিহার্য উপাদান ছোলা ও খেজুরের দাম সাধারণের নাগালে রাখায় সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন তাঁরা।
জেলাভিত্তিক বণ্টন ও ব্যবস্থাপনা মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে পাঁচটি ট্রাকে করে পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে। মাদারীপুর সদর উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় দুটি, কালকিনিতে একটি, রাজৈরে একটি এবং শিবচরে একটি ট্রাক নির্ধারিত পয়েন্টে অবস্থান করছে। প্রতিটি ট্রাকে ৪১০ জন করে মোট ২ হাজার কার্ডধারী বা উপযুক্ত ব্যক্তি এই সুফল পাচ্ছেন। পণ্যের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করতে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে প্রতিটি পয়েন্টে বিশেষ তদারকি (Monitoring) ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা মাদারীপুর সদর উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা মো. আতিয়ার রহমান জানান, এই কার্যক্রম কেবল শুরুর কয়েকদিনের জন্য নয়, বরং পুরো রমজান মাসজুড়ে ধারাবাহিকভাবে চলবে। যাতে কোনো পরিবারই এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়। প্রতিদিন পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক সেলের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হবে।
বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সিন্ডিকেটের প্রভাবমুক্ত রাখতে টিসিবির এই ‘ট্রাক সেল’ (Truck Sale) কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য এই প্রকল্প রমজানের সংযম ও ত্যাগের মাসে এক বড় স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।