উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের (UEFA Champions League) প্লে-অফ মানেই টানটান উত্তেজনা, আর সেই ম্যাচে যদি ডাগআউটে থাকেন জোসে মরিনহো, তবে নাটকের মাত্রা বেড়ে যায় বহুগুণ। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) লুজ স্টেডিয়ামে বেনফিকা বনাম রিয়াল মাদ্রিদের হাইভোল্টেজ ম্যাচেও তার ব্যতিক্রম হলো না। ভিনিসিউস জুনিয়রের একমাত্র গোলে রিয়াল জয় পেলেও, ম্যাচের সব আলো কেড়ে নিল মরিনহোর লাল কার্ড পাওয়ার নাটকীয় ঘটনা। কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে রেফারি তাকে মাঠছাড়া করলেন, তা নিয়ে এখন তোলপাড় ফুটবল বিশ্ব।
ম্যাচের প্রেক্ষাপট ও ভিনিসিউসের সেই গোল বেনফিকার ঘরের মাঠে খেলা হলেও শুরু থেকেই দাপট দেখিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচের ৫০তম মিনিটে অচলাবস্থা ভাঙেন ভিনিসিউস জুনিয়র। কিলিয়ান এমবাপ্পের (Kylian Mbappé) বাড়ানো বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডি-বক্সের বাঁ দিক থেকে এক দর্শনীয় শটে বল জালে জড়ান এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। এই গোলটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
উত্তেজনা ও বর্ণবাদ বিতর্ক গোল উদযাপনের পরপরই মাঠে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে ভিনিসিউসের গোল উদযাপনকে কেন্দ্র করে বেনফিকার তরুণ ফরোয়ার্ড জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, এ সময় ভিনিসিউসকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী গালি দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে রেফারি ফ্রান্সিস লেতেজিয়ের দ্রুত ‘FIFA Anti-Racism Protocol’ বা বর্ণবাদ বিরোধী প্রটোকল চালু করেন এবং বেশ কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে।
মরিনহোর সেই বিতর্কিত ৮৫ মিনিট ম্যাচ যখন শেষ পর্যায়ে, ঠিক তখনই ঘটে আসল নাটক। ৮৫তম মিনিটে বেনফিকার একজন খেলোয়াড় ফাউল করলে রেফারি বাঁশি বাজান। কিন্তু সাইডলাইন থেকে বেনফিকা কোচ জোসে মরিনহো দাবি তোলেন, ফাউলটি আসলে ভিনিসিউস করেছেন এবং তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠছাড়া করা উচিত। রেফারির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এমন উগ্র প্রতিবাদ এবং তর্কে জড়িয়ে পড়ার কারণে রেফারি প্রথমে তাকে হলুদ কার্ড দেখান।
কিন্তু মরিনহো দমে না গিয়ে চতুর্থ রেফারির সঙ্গেও তর্কে লিপ্ত হন এবং নিজের দাবিতে অনড় থাকেন। ফলে রেফারি দেরি না করে তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড তথা লাল কার্ড (Red Card) দেখিয়ে ডাগআউট থেকে বের করে দেন।
ফিরতি লেগে বড় ধাক্কা বেনফিকার জন্য এই লাল কার্ডের ফলে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠেয় ফিরতি লেগে ডাগআউটে থাকতে পারবেন না মরিনহো। প্লে-অফের লড়াইয়ে এক গোলে পিছিয়ে থাকা বেনফিকার জন্য তাদের প্রধান কৌশলীকে হারানো এক বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। রিয়াল মাদ্রিদ এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেল।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়া মরিনহোর এই আচরণকে অনেকেই তার চেনা ‘মাইন্ড গেম’-এর অংশ হিসেবে দেখছেন, যেখানে তিনি রেফারির ওপর চাপ তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তবে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে রেফারিং নিয়ে এমন প্রকাশ্য বিদ্রোহ তাকে শাস্তির মুখে ঠেলে দিল। এখন দেখার বিষয়, বার্নাব্যুর দ্বিতীয় লেগে কোচের অনুপস্থিতিতে বেনফিকা কোনো মিরাকল ঘটাতে পারে কি না।